29 July, 2021 (Thursday)
শিরোনাম

কুরবানীর জন্য কেমন পশু নির্বাচন করবেন?

প্রকাশিতঃ 16-07-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : আর কিছুদিন পরই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলিম পশু কুরবানী করে থাকে। আল্লাহ সবার উপর কুরবানী ওয়াজিব করেননি। তিনি সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব করেছেন। সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে সাধারণত উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল দ্বারা কুরবানী দিতে হবে, কারণ এই পশুগুলোকে কুরবানী দেওয়া জায়েজ।

আসুন, কুরবানীর জন্য কেমন পশু বাছাই করা উচিত, তা জেনে নিই। 

কুরবানীর পশু কেমন হতে হবে এ সম্পর্কে হজরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা চেষ্টা করবে কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট বয়সের পশু নির্বাচন করতে। যদি না পাও তাহলে ছয় মাসের দুম্বা কুরবানী করতে পার। (মুসলিম।) ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কে কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে, গরু – মহিষের বয়স দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং উট পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে।

কোন কোন পশু কুরবানী দেওয়া যায়ঃ

রাসূল (সাঃ) উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু কুরবানী করেননি কিংবা অনুমোদনও করেননি। তাই এসব পশু দিয়েই কুরবানী করা সুন্নাত। শরিয়তের পরামর্শ হল, হৃষ্টপুষ্ট, বেশি গোশত, নিখুঁত এবং দেখতে সুন্দর পশু কুরবানী করা। কুরবানীর পশু সব ধরনের দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। অনেকেই মনে করে যে মাদা পশু ছাড়া কুরবানী হয় না, কিন্তু এটি ভুল ধারণা। হালাল সব পশুর নর ও মাদা উভয়টি দিয়েই কুরবানী করা বৈধ। সুতরাং নর ও মাদা উভয় পশু দিয়ে কুরবানী করা যায়।

কুরবানীতে কোন পশুর বয়স কত হতে হয় সে সম্পর্কে ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ কম বয়সের পশু দিয়ে কুরবানী হয় না।

উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি পশু দ্বারা কুরবানী দিতে হয়। উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু-মহিষ কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছরের হতে হবে। অবশ্য ছয় মাসের ভেড়া যদি দেখতে মোটাতাজা হয় এবং এক বছর বয়সের মতো মনে হয়, তাহলে তা দিয়েই কুরবানী বৈধ। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদির ক্ষেত্রে একটি পশু শুধু এক ব্যক্তিই কুরবানী দিতে পারবে। গরু, মহিষ, উট সর্বোচ্চ সাত ব্যক্তি মিলে কুরবানী দিতে পারবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একটি উট ও গরু-মহিষে সাত ব্যক্তি কুরবানী জন্য শরিক হতে পারে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ১৩১৮)

পশুর যেসব সমস্যা থাকলে কোরবানি দেওয়া যাবে নাঃ

কুরবানীর পশু হতে হবে বিভিন্ন দোষ ও ত্রুটিমুক্ত। পশুর মধ্যে যেসব সমস্যা বা ত্রুটি  থাকলে কুরবানী দেয়া যাবে না, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- 

০১) পশুর দৃষ্টিশক্তি ভালো না থাকলে,

০২) পশুর শ্রবণশক্তি ভালো না থাকলে,

০৩) খোঁড়া পশু, (যা জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম)

০৪) জীবন ঘাতক রোগে আক্রান্ত হলে,

০৫) ছাগলের দুটি দুধের যেকোনো একটি কাটা থাকলে

০৬) লেজ কাটা থাকলে,

০৭) কান কাটা থাকলে,

০৮) লিঙ্গ কাটা কাটা থাকলে,

০৯) পাগল হওয়ার কারণে ঘাস-পানি ঠিকমতো না খেলে,

১০) দাঁত না থাকলে,

১১) রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে গেলে

১২) পশু অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ শীর্ণ হলে,

১৩) শিং ভাঙ্গা বা উপড়ে গেলে,

১৪) গরু বা মহিষের চারটি দুধের যেকোনো দুটি কাটা থাকলে,

১৫) পশু বড় ধরনের দোষত্রুটি থাকলে,

হাদিসে এসেছে, চার ধরনের সমস্যা বা ত্রুটিযুক্ত পশু  দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না। যেমনঃ অন্ধ—যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত—যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু—যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট ও আহত—যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৪৪)

পশুর যেসব সমস্যা থাকলে কুরবানী দেওয়া যাবেঃ

ত্রুটিযুক্ত পশু এড়িয়ে যাওয়াই ভালো কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে ত্রুটি থাকলেও পশু কুরবানী দেয়া যায়। সেগুলো কী, আসুন জেনে নেয়া যাক-

০১) লেজের কিছু অংশ কাটা হলে

০২) কানের কিছু অংশ কাটা হলে

০৩) কিছু দাঁত নেই, তবে বেশির ভাগ আছে।

০৪) জন্মগতভাবে এক অণ্ডকোষ বিশিষ্ট পশু হলে,

০৫) জন্মগতভাবে শিং না উঠলে,

০৬) পশু পাগল, তবে ঘাস-পানি ঠিকমতো খেলে,

০৭) শিং আছে তবে কিছু অংশ ভাঙ্গা থাকলে,

০৮) কান আছে কিন্তু ছোট,

০৯) পশুর গায়ে চর্মরোগ,

১০) পশুর একটি পা ভাঙা (তবে তিন পা দিয়ে সে চলতে পারে)

১১) পশু বৃদ্ধ হওয়ার কারণে বাচ্চা জন্মদানে অক্ষম হলে।

কুরবানী কেবলমাত্র পশু কুরবানী নয়। সামর্থ্য যাদের নেই কিংবা যারা দরিদ্র, এটি তাদের হক সামর্থ্যবানদের ওপর। আল্লাহর আরও কাছাকাছি আসবার একটি উপায় হচ্ছে কুরবানী। এই সুযোগ হেলায় হারানো উচিত নয় সামর্থ্যবানদের মুসলিমদের। আল্লাহ আমাদের কুরবানী কবুল করে নিন। আমিন




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ