29 July, 2021 (Thursday)
শিরোনাম

এমপি লীগের কমিটি বাতিল হবে আগস্টের আগে

প্রকাশিতঃ 18-07-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলায় এমপিরা যে সমস্ত কমিটি গঠন করেছেন সে সমস্ত কমিটিগুলো চলতি মাসের মধ্যেই বাতিল করা হবে। সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে জাতীয় শোক দিবসের আগে। এর মধ্যে যদি কমিটিগুলো বিলুপ্ত না করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট এমপিদের বিরুদ্ধে গঠনতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে এমপিরা তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিদের নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠন করছে এবং এই কমিটিতে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ত্যাগীদেরকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এরকম বেশ কিছু অভিযোগ আসার পর ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম সরেজমিনে কিছু কিছু বিষয় তদন্ত করেন। তদন্ত করে তিনি কিশোরগঞ্জে এরকম বেশ কিছু অবৈধ কমিটির সন্ধান পান এবং চিঠি দিয়ে তিনি অবৈধ কমিটিগুলোকে বিলুপ্ত করেন। মির্জা আজমের এই কমিটি বিলোপের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনায় হয়েছে।

পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এই কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে এ ধরনের পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ কেন্দ্রের কাছে আসছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে যদি কোনো কমিটি গঠন করা হয় সেই কমিটিগুলোকে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের সকল সাংগঠনিক শাখা কমিটি দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম, মর্যাদা এবং ক্ষমতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা সংগঠনের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বহির্ভূত প্রক্রিয়ায় শাখা কমিটির গঠন বা নেতৃত্ব নির্বাচনের কোনোসুযোগ নেই এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড গর্হিত কাজ। আর এই বাস্তবতায় যারা এই কমিটিগুলো গঠন করেছেন তাদের প্রত্যেককেই এই কমিটিগুলো বাতিলের জন্য শেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। 

সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, যে সমস্ত কমিটিগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে করা হয়েছে সেই সমস্ত কমিটিগুলো যেন বাতিল করে দেওয়া হয়। আর এই প্রেক্ষিতেই এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর অবৈধ কমিটির খবর আসছে। উল্লেখ্য যে, একটি নির্বাচনী এলাকায় একজন এমপি নির্বাচিত হবার পর তিনি বিকল্প একটি আওয়ামী লীগ গঠন করার চেষ্টা করেন। এই বিকল্প আওয়ামী লীগ গঠন করতে গিয়ে তিনি তার পছন্দের লোকজন, বিভিন্ন দল থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের জড়ো করেন যারা তার অনুগত এবং আজ্ঞাবহ হবে, তার বক্তব্য মতামতকে কখনো চ্যালেঞ্জ করবে না। এরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারলে এলাকায় তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব এবং আধিপত্য তৈরি হয়। কিন্তু সমস্যা হলো এরকম ঘটনা যখন ঘটে তখন মূল আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দুর্বল হয়ে পড়ে। দলের ত্যাগী কর্মীরা অপাংক্তেয় হয়ে পড়েন এবং তারা কোণঠাসা হয়ে যান। এরকম পরিস্থিতিতে শেষ বিচারে সংগঠনই দুর্বল হয়ে পড়ে। 

আর এটি যেন না হয় সেজন্যই আওয়ামী লীগ এখন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, সব ক্ষেত্রে এরকম ঘটনা ঘটছে না। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে উৎসাহিত হয়ে এমপি হয়েছেন তাদের জন্য এ ধরনের সমস্যা নাই। কিন্তু যারা হঠাৎ করে এমপি হয়েছেন, আগ্রহীদের দল করেননি অর্থাৎ হাইব্রিড তারাই এখন আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করার জন্য এই প্রক্রিয়ায় নেমেছেন। আর এটি বন্ধ করার জন্যই এখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ