29 July, 2021 (Thursday)
শিরোনাম

বিদিশার হাতেই ট্রাম কার্ড

প্রকাশিতঃ 20-07-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : এরশাদের গুপ্তধনের ট্রাম কার্ড আছে বিদিশা সিদ্দিকির হাতে। এরশাদের সাবেক স্ত্রীই জানেন এরশাদের গুপ্তধন কোথায় কোথায় আছে। আর এটি উদ্ধার করতে গেলে বিদিশা ছাড়া অন্য কেউ পারবে না। এটির মালিক যেই হোক না কেন এই সমস্ত সম্পদের উৎস এবং সম্পদ উদ্ধারের জন্য বিদিশাকে লাগবেই। আর এই জন্যই বলা হচ্ছে বিদিশার হাতেই রয়েছে ট্রাম কার্ড। সাম্প্রতিক সময়ে বিদিশাকে নিয়ে জাতীয় পার্টিতে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এরশাদের সন্তান এরিক এক সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারভিত্তিক এক কমিটি করেছে। এই কমিটি যে এরিকে নয় বিদিশার এই বিষয়টা বুঝতে কারোর অসুবিধা হবার কথা নয়। বিদিশা অনেক হিসেব নিকেশ করেই কমিটি গঠন করেছে যেখানে শুধুমাত্র জি এম কাদেরকে মাইনাস করা হয়েছে। এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ, এরশাদের পালিত পুত্র সাদ এরশাদ এমনকি এরশাদের ট্রাস্টের চেয়ারম্যানকেও এই নতুন জাতীয় পার্টির কমিটিতে রাখা হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে যে, বিদিশা গুপ্তধন উদ্ধারের জন্যই এই কমিটি গঠন করেছেন যেখানে তিনি এই গুপ্তধনগুলো ভাগবাটোয়ারা করবেন।

বিদিশা`র এখন প্রধান টার্গেট হলো জি এম কাদেরকে নেতৃত্বে থেকে থেকে সরিয়ে দেওয়া। জি এম কাদেরকে ভিলেন বানানো হয়েছে। এমনকি জাতীয় পার্টির নেতৃত্বের একটা অংশ এখন জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এমন কথা শোনা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে তারা কোনো কথা না বললেও গোপনে গোপনে বিদিশার সাথে অনেকেই যোগাযোগ করেছে বলে দাবি করেছেন বিদিশা। কেন হঠাৎ করে এই তোলপাড় সেটির মূল কারণ হলো যে, এরশাদের সুইস ব্যাংকের একাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ। জানা গেছে যে, এই অর্থের একটি অংশ বিদিশা ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নিয়েছেন তবে খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ। আর বাকি অংশটা উদ্ধারেরজন্য সকলকে নিয়েই বিদিশাকে উদ্ধার করতে হবে। কিন্তু সমস্যা যেটি হয়েছে যে, রওশন এরশাদ এখন এতই বয়স্ক যে তিনি এই সম্পদ উদ্ধারের জন্য যে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে সেটি করতে সক্ষম নন। সাদ এরশার এই সম্পদের বৈধ প্রতিনিধি নয়। আর ট্রাস্টের হাতে এই সম্পদ সম্পর্কে কোনো রকম তথ্য নেই।

এরশাদকে যখন বিদিশা বিয়ে করেছিলেন তারপর থেকেই এরশাদের গুপ্তধনের ব্যাপারে বিদিশা মনোযোগী ছিলেন। এরশাদের আবেগঘন অসতর্ক মুহূর্তগুলোতে এরশাদের সব সম্পত্তি হিসেবই তিনি নিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টির অনেক নেতাও স্বীকার করেন যে, এরশাদ বিদিশার সম্পর্কটা ছিল সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক। বিদিশা এরশাদকে ব্যবহার করে ধনী হতে চেয়েছিলেন এবং এরশাদের টাকা-পয়সার মালিকানা চেয়েছিলেন। আর এই অর্থ সম্পদ নিয়েই শেষ পর্যন্ত বিদিশার সাথে এরশাদের গন্ডগোল হয় এবং বিদিশাকে এরশাদ তালাক দেন। কিন্তু যে সময়টুকুও তাদের সম্পর্ক ছিল সেই সময় এরশাদ অনেক দুর্বল মুহূর্তে বিদিশাকে অনেক গোপন তথ্য দিয়েছেন। যেটি এখন বিদিশার ট্রাম কার্ড হিসেবে রয়েছে।

বিদিশা জানেন সুইস ব্যাংকে এরশাদের কতগুলো অ্যাকাউন্ট আছে। কোন একাউন্টের নাম্বার কি কি। কোন একাউন্টে পিন কোড কি। বিদিশাই জানেন এরশাদের সৌদি আরবে কি কি সম্পদ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কি কি সম্পদ রয়েছে। আর এই সম্পদগুলো বিদিশা ছাড়া কেউই উদ্ধার করতে পারবে না। এ কারণেই একমাত্র জি এম কাদের ছাড়া এরশাদ পরিবারের মোটামুটি সবাই এখন বিদিশার সাথে হাত মিলিয়েছে।তাদের সবাইকে বিদিশা টোপ দিয়েছেন, মোটা অংকের অর্থের লোভ দেখিয়েছেন। আর এই লোভে পরেই এখন বিদিশা ক্ষমতাবান হয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির সূত্রগুলো বলছে যে, এখনো খেলা শেষ হয়নি। সামনে আরও চমক আসছে এবং সেই চমকটা দেখাবেন বিদিশাই।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ