29 July, 2021 (Thursday)
শিরোনাম

অজানা শঙ্কায় আওয়ামী লীগ

প্রকাশিতঃ 20-07-2021



নিউজ ডেস্ক : টানা ১২ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু দলটির নেতাকর্মীরা ভালো নেই। আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত নানা রকম শঙ্কা আশঙ্কার কথা শোনা যায়। আওয়ামী লীগের নেতারা সরকারের তৃতীয় মেয়াদের কার্যক্রম দিয়ে নানা রকম প্রশ্ন করেন। তাদের মধ্যে নানারকম ভয় কাজ করছে, হতাশা কাজ করছে। আর তাই সার্বিক বিবেচনায় মনে করা হয় যে, আওয়ামী লীগ ভালো নেই। তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব অনেক কমে গেছে। আমলারাই দেশ চালাচ্ছেন এমনটি বলেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দই। তারা বলছেন যে, এখন সরকারে কি ঘটছে না ঘটছে সে সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই ধারণা নেই। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতারা যখন সরকারের কার্যক্রমের পক্ষে কথা বলতে যান তখনও তারা আসলে প্রকৃত তথ্য উপাত্ত জানেন না। সরকার কীভাবে চলছে সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও অন্ধকারে। তৃণমূলের অবস্থা আরো খারাপ। তাদের সমস্যা দুই ধরনের। প্রথমত তাদেরকে এমপি এবং প্রভাবশালী নেতারা ঘিরে ফেলেছে। তাদেরকে কর্তৃত্বহীন করে ফেলেছে। 

স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ চলছে এমপিদের কর্তৃত্বে। আর আমলারা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দেখভাল করছেন। ফলে আওয়ামী লীগ যেনো থেকেও নেই। আর অন্যদিকে সরকারের যে সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে সেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে প্রশ্নগুলো উঠছে সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়ারও কেউ নেই। সরকার কীভাবে চলছে, সরকার পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ নেবে এ সম্পর্কে অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতাই অন্ধকারে। তারা মনে করছে যে, মাঠের খবর সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য যে চেইন সেই চেইনটি নষ্ট হয়ে গেছে। যার ফলে সরকার অনেক সিদ্ধান্তই নিচ্ছে মাঠের খবর না জেনে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছিলেন যে, এই যে লকডাউনের প্রজ্ঞাপনগুলো জারি করা হচ্ছে সেই প্রজ্ঞাপনগুলোতে মানুষ বিরক্তহচ্ছে ক্ষুব্ধ হচ্ছে। কিন্তু মাঠের খবর সরাসরিভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বা নীতিনির্ধারকদের কাছে দেয়া হচ্ছে না।

এখন স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা পুলিশ প্রশাসন রাজনীতিবিদদেরকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। তারা সরাসরি ঢাকায় যোগাযোগ করছেন। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যার ফলে অনেক সিদ্ধান্তই ভুল হচ্ছে এবং সেটি যে ভুল সিদ্ধান্ত হচ্ছে এ ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কান পর্যন্ত পৌঁছছে না। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন যে, লকডাউন শিথিল করা হলো ভালো কথা কিন্তু ২৩ তারিখ থেকে আবার লকডাউন দেওয়া হলো কেন? যারা গ্রামে গেছেন তারা গ্রাম থেকে বাড়িতে ফিরবে কিভাবে? প্রথমে বলা হলো যে সব কলকারখানা বন্ধ থাকবে। গতকাল আবার বলা হলো যে, ট্যানারি, ওষুধসহ কিছু শিল্প কারখানা খোলা থাকবে। একের পর এক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন সরকারের অস্থিরতার প্রকাশ বলেই আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। 

আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন যে, এখন দেশের আশা-ভরসার একমাত্র জায়গা হলো শেখ হাসিনা। তার ওপরই মানুষের আস্থা আছে। আর শেখ হাসিনার প্রাণশক্তি হলো আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনাকে শেখ হাসিনাকে একটি চাটুকার গোষ্ঠী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে বলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন। তারা এটাও মনে করেন যে, শেখ হাসিনার কাছে প্রকৃত তথ্য পৌঁছতে দেয়া হচ্ছে না। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এক ধরনের শঙ্কা এবং আতঙ্কের মধ্যে আছেন। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, শেখ হাসিনা ছাড়া আমাদের কিছু নেই। তাকেই এখন একলা করে ফেলার এক নিরব ষড়যন্ত্র চলছে। আর এ কারণেই এসব কিছু নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে এক উৎকণ্ঠা কাজ করছে। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছে যে দল ভালো নেই, সরকারও ভালো চলছে না। যদিও আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে বলছে যে, সবকিছু ঠিক আছে।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ