25 September, 2021 (Saturday)
শিরোনাম

হ্যাকার হতে কি সিএসসি পড়াটা জরুরী?

প্রকাশিতঃ 28-07-2021



নিউজ ডেস্ক : হ্যাকার হতে হলে সিএসসি পড়াটা কি জরুরী কি না তা জানার আগে চলুন হ্যাকারটা আসলে কি তা জেনে নেই। হ্যাকার কে যদি খুব বেশি সহজ ভাষায় বর্ণনা করতে যাই তবে তা হবে চোর। কিন্তু বাস্তবিক জীবনে সকল হ্যাকারই চোর নন। হ্যাকরারা আসলে বিনা অনুমতিতেই যে কারো কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার অর্জন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কম্পিউটারের ভাষায় বিনা অনুমতিতে কারো কম্পিউটার সিস্টেমে যারা প্রবেশ করতে পারেন তাদেরকেই আসলে হ্যাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 
যারা হ্যাকার হয়ে থাকেন তারা মূলত অনেক বেশি ভালো মানের কম্পিউটার প্রোগ্রামার হয়ে থাকেন। আপনি যদি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্কিং বিষয়ে বিষদজ্ঞান অর্জন করতে না পারেন তবে আপনার পক্ষে একজন দক্ষ হ্যাকার হয়ে উঠা সম্ভব নয়। সাধারণত একজন হ্যাকারকে সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশি পরিমাণ দ্রুততার সহিত চিন্তা এবং সিধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হয়। যদিও এটি এক-দুদিনেই গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দিনের পর দিন প্রোগ্রামিং নিয়ে প্র্যাকটিসের ফল হচ্ছে একজন দক্ষ হ্যাকার হয়ে গড়ে উঠার প্রথম এবং সর্বশেষ ধাপ। হ্যাকিং জিনিসটা পৃথিবীর সবথেকে কঠিন এবং জটিল কাজগুলোর মধ্যে একটি। তাই যত বেশি প্রোগ্রামিং ভাষা এবং ব্যাবহার আপনার জানা থাকবে তত বেশি আপনার পক্ষে সহজ হবে হ্যাকার হিসেবে নিজেকে বিকশিত করা।  

ও না, হ্যাকার হওয়ার জন্য সিএসই পড়তে হবে এমন কোন নিয়ম নেই আসলে। আর সিএসই পড়ে সবাই হ্যাকার হয় না সেটাও মাথায় রাখতে হবে ভালো করে।

হ্যাকার হওয়ার আগে আপনাকে আসলে কত ধরণের হ্যাকার হওয়া যায় সেই সম্পর্কে ধারণ রাখতে হবে। সাধারণত হ্যাকিং্যের জগতে আমরা তিন ধরণের হ্যাকার দেখতে পাই।
• ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার
• হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার
• গ্রে হ্যাট হ্যাকার

• ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার হচ্ছে সেই ধরনের হ্যাকার যারা হ্যাকিং এর মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। অর্থাৎ হ্যাকিং্যের মাধ্যমে কোন মানুষের বা কোন প্রতিষ্ঠানের পারসোনাল ডাটা চুরি করা বা টাকা দাবি করা ইত্যাদি। সাধারণ আমরা মুভি কিংবা সংবাদপত্রের পাতায় এই ধরণের হ্যাকারদের সম্পর্কেই বেশি তথ্য দেখে থাকি। এরা তাদের কম্পিউটারের সমস্ত জ্ঞানকেই খারাপ কাজে ব্যবহার করে থাকে এবং এদের প্রধান লক্ষই থাকে মানুষের টাকা ছিনিয়ে নেওয়া। 


• হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার হচ্ছে সে ধরনের হ্যাকার যারা মানুষের ভালোর জন্য হ্যাকিং এর কাজটি করে থাকে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানেরহারিয়ে যাওয়া ডাটা পুনরুদ্ধার করা বা হ্যাকিং এর মাধ্যমে কোন সিস্টেম এর সিকিউরিটি চেক করা অর্থাৎ যারা ভালোর জন্য হ্যাক করে তারাই হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার। এদেরকে এথিক্যাল হ্যাকারও বলা হয়।

• আর গ্রে হ্যাট হ্যাকার হচ্ছে হোয়াইট হ্যাট এবং ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারের মাঝামাঝি পর্যায়ের হ্যাকার। অর্থাৎ এরা মাঝে মাঝে ভাও কাজও করে আবার মাঝে মাঝে ক্ষতিও করে।

এখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কোন ধরণের হ্যাকার হতে ইচ্ছুক। হ্যাকিং্যে অনেক ধরণের রিস্ক ফ্যাক্টর থাকে। খারাপ কাজের সাথে জড়িয়ে গেলে আপনার বেশ মোটা অংকের জরিমানা এবং জেলেও যেতে হতে পারে। আমাদের উচিৎ খারাপ কাজের সাথে জড়িয়ে না পড়ে অন্যর ভালোর জন্য ইথিক্যাল/হোয়াইহ্যাট হ্যাকিংকেই বেছে নেওয়া। আপনি যদি চিন্তা করে থাকেন ইথিক্যাল হ্যাকিং্যে অর্থের পরিমাণ সল্প তবে আপনার ধারণা একেবারেই কম। বর্তমান সময়ে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারদের উত্থান চরম আকার ধারণ করার সাথে সাথে এদের ঠেকানোর জন্য ইথিক্যাল হ্যাকার দের চাহিদা বিশ্ব বাজারে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারদের থেকেও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে বৈধ পথে অর্থেই পরিমাণ চোখ কপালে তোমার মতই। 
এবার দেখা যাক, একজন হ্যাকার হতে হলে আপনাকে কি কি জানতে হবে বা কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।

ইথিক্যাল হ্যাকার হওয়ার জন্য আপনাকে যা যা করতে হবে:

1. বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে জানতে হবে, উইন্ডোজ, লিনাক্স, ইউনিক্স ইত্যাদি।
2. সার্চ ইঞ্জিন ও সার্ভার সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে।
3. বিভিন্ন হ্যাকিং টুলস এর ব্যবহার ভালো মত শিখতে হবে। 
4. প্রচুর পরিমাণে থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে, সেগুলো কাজের ধরন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। 
5. ডাটাবেজ সম্পর্কে জানতে হবে। SQL শিখতে হবে।
6. নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা অর্জন করতে হবে। নেটওয়ার্ক এ থাকা ডিভাইস খুঁজে বের করা, ডিভাইসগুলো কিভাবে কানেক্টেড আছে এগুলো খুঁজে বের করার জন্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ভালো ধারণা দরকার।
7. প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে। আপনি যদি অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি বা সফটওয়্যার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করতে চান তবে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে।

ইউটিউব গুগল এ ইথিক্যাল হ্যাকিং এর অনেক কোর্স আছে সেখান থেকে বিস্তারিত শিখতে পারবেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আপনাকে গুগলের ব্যবহার সম্পর্কে ভালো ভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কোথায় কিভাবে কি কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্চ করতে হবে তা সবার আগে আয়ত্ত করে নিতে হবে।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ