25 September, 2021 (Saturday)
শিরোনাম

মেসি: দশ হাজার দুইশো দিন ট্রফিখরা কাটানোর মহানায়ক

প্রকাশিতঃ 28-07-2021



স্পোর্টস ডেস্ক : সেলেসাও নামে পরিচিত ফিফা ফুটবলের অন্যতম সফল দল আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে ট্রফি খরায় দশ হাজার দুইশত বত্রিশ দিন অর্থাৎ ২৭ বছর পাড় করে ফেলেছিল৷ তবে এতে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থনের একটুও ভাটা পড়েনি তাদের সমর্থকদের। তারা নতুন করে শিরোপার আশা দেখেছিল, স্বপ্ন বুনেছিল। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে সিমিওনে, বাতিস্ততা এবং অল্টামারিয়ানোদের হাত ধরে কোপা আমেরিকার শিরোপা এসেছিলো আলবিসেলেস্তাদের ঘরে। বিশ্বকাপের গল্পটা আরো বেশ পুরনো। সেই ১৯৮৬ সালে ফুটবল কিংবদন্তী ম্যারাডোনার হাতধরে সর্বশেষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ল্যাটিন আমেরিকার তথা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাক্রমশালী এই ফুটবল দলটি। এরপরে একটি একটি বছর করে কেটে গেছে ২৭টি বছর। কোন ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই আর সফল হতে পারছিলনা এক সময়ের ছন্দময় ফুটবল খেলা এই দলটি। 
 
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ফুটবল পাগল জাতি আর্জেন্টিনাতে ফুটবলের খেলা শুরু হয় ১৮৬৭ সালে। তবে সেলেসাওরা আন্তর্জাতিক ভাবে প্রথম ফুটবল ম্যাচ খেলে ১৯০১ সালে। মোন্তেবিদেওতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে। আন্তর্জাতিক অভিষেকের ম্যাচেই জয় পাওয়া আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করে নেয় এই উরুগুয়ের বিপক্ষেই। ১৯০৬ সালে কোপা লিপতন প্রতিযোগিতার সেই আসরে তারা উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জয়ী হয়েছিল। ১৯১৬ সালে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আর্জেন্টিনা। যা বর্তমানে কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতার আসর নামেই পরিচিত। ১৯২১ সালে ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে সব কয়টি ম্যাচে জয়লাভ করে প্রথম বারের মত দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ তথা কোপা আমেরিকাতে চ্যাম্পিয়ন হয় আকাশী সাদার জার্সিধারী এই দল। কোপা আমেরিকাতে ১৪ বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে এখন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার সর্বাধিক সফল হওয়া দ্বিতীয় দল আর্জেন্টিনাই। সামনে শুধু ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। 
 
১৯৩০ সালে ফিফা কতৃক আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ আসরেই বাজিমাত করেছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমবারের সেই আসরে ফুটবল নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছিল তারা। কিন্ত স্বাগতিক দেশ উরুগুয়ের বিপক্ষে ফাইনাল হেরে গিয়ে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এরপরে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে ৪৮ বছরের অপেক্ষা করতে হছে আকাশীদের। অবশেষে ১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ১১তম আসরে পাসারেলার নেতৃত্বে রিভার প্লেটের মাঠে নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পঞ্চম স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জয় করে নেয় আলবিসেলেস্তারা। এরপরে ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় বার বিশ্বসেরা হয় আর্জেন্টিনা।যদিও তাদের দুই বিশ্বকাপ জয়কেই ঘিরে রয়েছে বহু বিতর্ক। চ্যাম্পিয়ন হওয়া আসরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করে সাদা কালোর ক্যামেরাকে ফাঁকি দিয়েছিলেন। যা বিশ্বকাপ জয়ে এখনো রাইভালদের টিপ্পনী কাটা সহ্য করতে হয় আর্জেন্টাইনদের। এছাড়া পরবর্তী `৯০ বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা একজন ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃত পাওয়া ম্যারাডোনা ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ হয়ে সেই বিতর্ককে আরো উসকে দিয়েছিলো। 
 
দুটি বিশ্বকাপ আর ১৪টি কোপা আমেরিকা জেতা আর্জেন্টিনা ১৯৯৩ সালের পর থেকে প্রতিটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। ১৯৯৩ সালের পরের অনুষ্ঠেয় ১৮টি টুর্নামেন্টে একটিতেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি তারা। তারকাবহুল এই ফুটবল দলে একে একে সব তারকারা ব্যর্থ হওয়াতে যেন শিরোপার আশা মরিচীকার মতই মিইয়ে গেছে। এরমধ্যে দলের অন্যতম সেরা ফুটবল তারকা মেসি ১৬ বছরের জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৯টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে নকআউট পর্বে শুধু মাত্র ২টি গোল করেছেন। করেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচেও শিরোপা নির্ধারণী পেনাল্টিও মিস! অনেকেই মনে করেন এই ১৬ বছরে নক আউট ম্যাচে মেসির এমন নিস্প্রভ পারফর্মেন্সের জন্য আর্জেন্টিনার শিরোপা রয়ে গেছে অধরাই। তবে হতাশায় ধরা দুই প্রজন্মের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা এখনো আশা করেন দলের সেরা তারকা মেসিই তাদের ট্রফি ব্যর্থতা ঘোচাবেন। জয় করবেন আন্তর্জাতিক ট্রফি।

অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, আক্ষেপ ঘুচলো ট্রফি খরার। গত ১১ জুলাই, দশ হাজার ২৩৩ দিন পরে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ না হোক, দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল আসর কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতল আর্জেন্টিনা। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিলেন মেসি। ১৯৯৩ সালের পর অবশেষে শাপমুক্তি। ২৮ বছর পর ফের কোপার খেতাব পুনরুদ্ধার করে তারা। দেশের জার্সিতে জীবনে সবথেকে বড় কোনো শিরোপা জিতেছেন লিওনেল মেসি। কোপা আমেরিকার শিরোপা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে একমাত্র গোল করে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়া। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ম্যাচ সেরার ট্রফি। আর গোটা টুর্নামেন্টেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আর্জেন্টিনা ও নিজের হয়ে সেই ট্রফি ঘরে তুললেন মেসিই। ফাইনালে গোল না পেলেও কিংবা ম্যাচের একমাত্র গোলে অ্যাসিস্ট না করতে পারলেও টুর্নামেন্ট ট্রফির পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতা আর সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি দুইটিই উঠেছে মেসির হাতেই। এই কোপা আমেরিকাই ৩৪ বছর বয়সী মেসির আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় শেষ টুর্নামেন্ট ধরে নিয়ে বলা যায়, দু’হাত ভরেই তাকে বিদায় দিলো লাতিনের সর্বোচ্চ আসর।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ