25 September, 2021 (Saturday)
শিরোনাম

নতুন ষড়যন্ত্রে সুশীল সমাজ

প্রকাশিতঃ 28-07-2021



নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে সুশীল সমাজ নতুন করে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আর এই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সুশীল সমাজের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মধ্য দিয়ে। বিভিন্ন ইস্যুতে সুশীল সমাজরা আবার ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। সম্প্রতি ৫১ জন সুশীল প্রতিনিধি একত্রিত হয়েছেন। তাদের মূল টার্গেট হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিতর্কিত করা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমালোচিত করা। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক আপত্তিকর এবং কুৎসিত আক্রমণাত্মক অবস্থান দেখা গেছে বিতর্কিত কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। প্রথমত, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার বাংলাদেশ সম্পর্কে যে আপত্তিকর এবং মনগড়া মন্তব্য করেছে তার পিছনে আমাদের সুশীল সমাজের হাত রয়েছে। আবার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তা শুধু আপত্তিকরই নয়, মনগড়া এবং তথ্যের একাধিক বিভ্রান্তি রয়েছে। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ সরাসরি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই রিপোর্টটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রতিবেদন তৈরি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুশীলদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফরবিডেন স্টোরিস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেগাসাস স্পাইওয়ার ব্যবহারকারীদের টেলিফোন নাম্বার প্রকাশ করেছে। সেই টেলিফোন নাম্বার এবং পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহারকারীর দেশগুলোর যে তালিকা সেই তালিকায় প্রথমে বাংলাদেশের নাম ছিল না। পরে বাংলাদেশের নাম জুড়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনরকম কূটনৈতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে এ ধরনের স্পাইওয়্যার কেনার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তারপরও আমাদেরদেশের সুশীল সমাজ এটি নিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবেই সুশীল সমাজ এই বিষয় নিয়েও মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৫১ জন সুশীলের একটি ঐক্যরূপ দেখা যাচ্ছে। এরা সবাই ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিরাজনীতিকরণের পক্ষে ষড়যন্ত্রকারী এবং এদের অনেকেই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির পরিবারের সন্তান। এই তথাকথিত সুশীলদের এই একত্রিত হওয়া এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান একসূত্রে গাঁথা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশের সুশীল সমাজ এখন নতুন করে ছক বাঁধছে সরকারের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে এবং সরকার নানা রকম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলা করছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর বড় ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু তারপরও সুশীলরা সরকারের একটি ভয়ঙ্কর চেহারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপনের জন্য চেষ্টা করছে, এমন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একের পর এক যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেই ঘটনাগুলো সবই সুশীলদের চিন্তাপ্রসূত বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য যে, ওয়ান-ইলেভেন আসার আগেও সুশীলদের এরকম তৎপরতা ছিল। তাদের এই তৎপরতা শুধু দেশের মধ্যেই থাকেনি, বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ার পক্ষে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমর্থনও আদায় করেছিল এবং তারপরেই বাংলাদেশে এক-এগারো সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এখন সুশীলরা আবার নতুন করে একটি গণতন্ত্র এবং রাজনীতি বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগেই তারা নির্বাচন কমিশনকেও বিতর্কিত করার একটি প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছিল। এখন তারা আবার যে নতুন মেরুকরণ করছে সেটির মূল টার্গেট যে সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তা বুঝতে কারোরই কষ্ট হওয়ার কথা নয়। তবে সুশীলদের এই সমস্ত অপৎপরতার বিরুদ্ধে এখনই রাজনৈতিক ঐক্য এবং প্রতিবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ