25 September, 2021 (Saturday)
শিরোনাম

সাইবার যুদ্ধের রাজনীতি

প্রকাশিতঃ 14-09-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আসছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ইন্টারনেটের সর্বব্যাপী প্রভাব মানুষের জীবনযাপন ও কর্মধারা বদলে দিচ্ছে। তেমনি রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি হচ্ছে এ অনলাইন কার্যক্রম। প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই সাইবার যুদ্ধ বা অনলাইন আন্দোলন। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।
  
এই অনলাইন যুদ্ধ মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নির্মাণে নেতৃত্ব দেয়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জন্য। নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় নন। ফলে সরকারবিরোধী গুজব রোধ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা কম হচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ’সোশাল মিডিয়া কোম্পানির কাছে আমরা অসহায়।’ এমতাবস্থায় নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এরপরই এক লাখ নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, মূল দল ছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রথমে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে হলেও ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণে ই-মেইল ব্যবহার, টাইপ, চিঠিপত্র লেখার কৌশল শেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় শেখানো হচ্ছে।

ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধী ও আগুনসন্ত্রাসের সিন্ডিকেট বিদেশে বসে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করে ভাড়া করেছে বিশাল সাইবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।  আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও কিছু করতে পারছে না। এই সাইবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর পরিবার, সরকার, বিচার বিভাগ ও দেশের বিরুদ্ধে যাচ্ছে তাই তৎপরতা চালাচ্ছে। জবাবদিহি না থাকায় বেপরোয়াভাবে প্রতিনিয়ত বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে তারা।  
 
বিষবাষ্প ছড়ানো লোকদের একেবারে প্রথম সারির এজেন্ট হলো ডেভিড বার্গম্যান।  বাংলাদেশে উগ্রবাদ-গুজব ছড়ানো এ লোকটির কুকার্য ইতিমধ্যেই দেশবাসী জানে। তার নামে-বেনামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে সে বাকিদের অন্তর্ভুক্ত করে। সে প্রক্রিয়ায় অর্থ প্রদান করে তা ট্রেস করা একেবারেই অসম্ভব। এ ছাড়া নাগরিক টিভি (অনলাইন), পিনাকী ভট্টাচার্য, কানাডা প্রবাসী তাজুল ইসলাম ওরফে তাজ হাশমী, পলাতকশিশু ও নারী নির্যাতন মামলার আসামী রাজাকার পুত্র ইলিয়াস হোসেন, আরেক পলাতক কনক সরওয়ার, তসনিম খলিল, নুরুল হুক নুর (এক্স-ডাকসু ভিপি), ফেস দ্যা পিপল পেজের হোস্টরা পাকিস্তান ভিত্তিক নানা জঙ্গি সংগঠনের হয়ে অনলাইনে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। উগ্রবাদ এবং সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য এ সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে নিয়োগ করেছে লাখো তরুণ-তরুণী।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যারা অপপ্রচার করছে তাদের অধিকাংশই যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও বংশধর। এ ছাড়া বরখাস্ত হওয়া কিছু সেনা কর্মকর্তা, পলাতক বিএনপি নেতা, কিছু পলাতক সাংবাদিক রয়েছেন যারা লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বসে এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির ওপর বিশেষজ্ঞ নই। তবে আমরা শুধু বুঝি, জাতির স্বার্থে, অসাম্প্রদায়িক দেশের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা ইউটিউব, ফেসবুকসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসতে পারি। নীতিমালা না মানলে এ দেশে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারি। তাদের অনুরোধ নয়, আদেশ দিতে হবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। 

এ দিকে সাংবাদিক গাজী নাসিরুদ্দিন সম্প্রতি ২২ আগস্ট তার ফেইসবুক পোস্টে এই বিদেশি এজেন্টদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, নেত্র নিউজ নামের ওয়েব পোর্টালটির কাজ কি? আমেরিকান এনজিও ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এনইডি) টাকা দিয়ে তাদের চালায় কেন? ডেভিড বার্গম্যান নিজেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাংবাদিক পরিচয় দেন, ওই পোর্টালের এডিটর পরিচয় দেয়া তাসনীম খলিলও নিজেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট সাংবাদিক পরিচয় দেন। আমেরিকান টাকায় তা কি ইন্ডিপেন্ডেন্ট জার্নালিজম করেন বুঝলাম না। আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স নানা কৌশলে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে অর্থ ব্যয় করে। তাদের এহেন কর্মকাণ্ড কিন্তু ডকুমেন্টেড। এনইডির টাকা নিয়ে যে নেত্র নিউজ চলে সেটা তাদের সাইটে লেখা আছে। তাসনীম স্বীকার করেছেন, ফাহমিদুল হকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে। ডেভিড অকপটে বলেন। সর্বসাম্প্রতিক লেখাতে সেই অর্থপ্রাপ্তি জাস্টিফাই করার চেষ্টা করে বরং আরো সন্দেহ তৈরি করেছেন।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সাইবার যুদ্ধ’ প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা যেভাবে অনলাইন ব্লগ ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তেমনি ফেসবুকসহ ইন্টারনেট-ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামীর সমর্থকরা। ‘বাঁশের কেল্লা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হয় ক্রমাগত। এর পর থেকে ফেসবুকে নানা ধরণের গ্রুপ তৈরি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ