25 September, 2021 (Saturday)
শিরোনাম

ধর্ষণ মামলার মৃত তরুণীকে পাঁচ বছর পর জীবিত উদ্ধার

প্রকাশিতঃ 14-09-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক তরুণীকে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে একটি চক্র। বর্তমানে মেয়েটির বয়স ২১ বছর চলছে। এ অসাধু চক্রটি দীর্ঘ পাঁচ বছর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গেও কথা বলতে দেয়নি। পরিবার জানতো তাদের মেয়েটি মারা গেছে। ৫ বছর পর অবশেষে ভিকটিম মেয়েটিকে জীবিত উদ্ধার ও মেয়েটিকে নির্যাতনে জড়িত অভিযোগে তার গৃহকর্তা, গৃহকর্ত্রীসহ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই)। কয়েক মাস আগে পিবিআই এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়। চক্রটির বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে বলে জানায় পিবিআই।

গ্রেফতাররা হলেন- রিনা বেগম ওরফে লতা বেগম, সোহাগ ব্যাপারী, রাব্বী, আল আমিন ও বছির। এ মামলায় মেয়েটির খালা বাসনা বেগমকেও খোঁজা হচ্ছে বলে তদন্ত–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মাসুদ খান বলেন, এত দিন ওই কিশোরীকে যৌনকর্মে বাধ্য করেছিল একটি চক্র। যে বাসায় সে কাজে গিয়েছিল, তারাই এটা করেছে। এ কাজে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার বাদী মেয়েটির খালাও সহায়তা করেছেন বলে তাদের সন্দেহ। 

ওই কিশোরীর আইনজীবী আবদুর রহমান খান বলেন, গোপালগঞ্জের ওই কিশোরী আদৌ ধর্ষণের পর খুনের শিকার হয়নি। তার খালা বাসনা বেগম এই মামলা করেছিলেন। পুলিশের তদন্তে যা সত্য, তা বের হয়ে এসেছে। ওই কিশোরীকে দিনের পর দিন আটকে রেখে যৌনকর্মে বাধ্য করেন আসামিরা। কিশোরী এখন তার মায়ের জিম্মায় আছে।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোক্তভোগী মেয়েটির বাড়ি গোপালগঞ্জ। তাকে ২০১৬ সালে ঢাকায় বসবাস করা খালা বাসনা বেগমের কাছে রেছে যায় তার পরিবার। পরে খালার মাধ্যমে  ভাটারায়বসবাসকারী রিনা বেগমের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ শুরু করে ওই কিশোরী। এরপর  গৃহকর্ত্রী রিনা বেগম গৃহকর্মী খুঁজে পাচ্ছেন না মর্মে ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ২৪ এপ্রিল। ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, আগের দিন ওই কিশোরী কাউকে না বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ওই সময় পূর্ব ভাটারার চিতাখোলা সেতুর কাছে লাশ উদ্ধার হয় এক কিশোরীর। তখন এই কিশোরীর খালা বাসনা বেগমসহ তাঁর বাবা-মা দাবি করেন, খুন হওয়া ওই কিশোরীই তাদের মেয়ে। তখন ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করতে গেলে  ফিরিয়ে দেয়া হয় তাদের। পরে বাসনা বেগম ওই কিশোরীকে তার বোনের মেয়ে দাবি করে ২০১৬ সালের ১৪ জুন ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গৃহকর্ত্রী রিনা বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। আদালত তখন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নিয়ে তা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনা পেয়ে প্রথমে ভাটারা থানা-পুলিশ তদন্তে নামে। এরপর মামলাটির তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ। লাশ উদ্ধার হওয়া কিশোরীই ওই মেয়ে কি না, তা বের করতে তার মা–বাবার ডিএনএ নমুনা নিয়ে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা করে সিআইডি আদালতকে জানায়, নিহত কিশোরীর ডিএনএ নমুনার সঙ্গে গোপালগঞ্জের কিশোরীর মা–বাবার ডিএনএ মেলেনি।

এরপর ২০১৯ সালের ৩০ জুন ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় ডিবি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাটারা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত কিশোরী গোপালগঞ্জের কিশোরী নয়। এ জন্য রিনা বেগমসহ অন্যদের অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করে ডিবি পুলিশ। এরপর মামলার বাদী বাসনা বেগম ডিবির দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
তিন বছরে গোয়েন্দা পুলিশের তিনজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেন। পরে টানা সাত মাস তদন্ত করে ৭ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পিবিআই




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ