30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

প্যান্ডোরা পেপারসে নাম এসেছে বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টুর

প্রকাশিতঃ 05-10-2021



নিউজ ডেস্ক : নেপালের শীর্ষ ধনী বিনোদ চৌধুরীর সঙ্গে ব্যবসায় জাড়িত থাকায় প্যান্ডোরা পেপারসে নাম এসেছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল মিন্টুর। পেপারসে তার পরিচয় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে।

এ তথ্য প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম, নেপাল (সিআইজে-এন)। পরে এ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে নেপাল টাইমস।

নেপাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনোদ চৌধুরী ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে সিনোভেশন নামে একটি কোম্পানির নিবন্ধন নিয়ে অর্থ পাচার করেছেন। ওই কোম্পানির সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের যেসব ব্যক্তির লেনদেন বা সংযোগের তথ্য এসেছে, সে তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম। তবে মিন্টু ওই কোম্পানির সঙ্গে কোন ধরনের লেনদেন করেছেন, তার কোনো তথ্য নেপাল টাইমসের প্রতিবেদনে নেই।

তদন্তে উঠে এসেছে, এসব নেপালী কোম্পানিগুলো ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে (বিভিআই) নিজ পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের নামে কোম্পানির নিবন্ধন করিয়ে  শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ পাচার করতো।  

সিআইজে-এন এর ফাঁস করা নথিতে বিভিআই, সাইপ্রাস, মরিশাস, সিঙ্গাপুরের মতো কর স্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে শেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা, কোম্পানিটির সঙ্গে পার্টনারদের গোপনে শেয়ার কেনা-বেচা, অন্যান্য অর্থ লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। এরমধ্যে কিছু পাকিস্তানি, সিঙ্গাপুরিয়ান, শ্রীলঙ্কান ও বাংলাদেশির নামও আছে বলে জানা গেছে নেপাল টাইমসের প্রতিবেদন থেকে।  

সিআইজে-এন আইসিআইজের অংশীদার সংগঠন। আইসিআইজে প্যান্ডোরা পেপারসের ডাটা উন্মুক্তভাবে প্রকাশ না করলেও অংশীদারদের সঙ্গে বিনিময় করেছে। প্যান্ডোরা পেপারস হচ্ছে আইসিআইজে প্রকাশিত প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ নথি ফাঁসের ডকুমেন্ট। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনকুবের, রাজনীতিবিদ ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও গুপ্ত সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। ১১৭টি দেশের ছয় শতাধিক সাংবাদিক কয়েক মাস ধরে ১৪টি উৎস থেকে নথিগুলো সংগ্রহ করেছেন। ইতোমধ্যে ৫০ জনের বেশি প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের ওপর আইসিআইজে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আইসিআইজে তাদের `অফশোর লিকস` ডাটাবেজ সংযুক্ত করবে।

দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাল্টিমোড গ্রুপের অধীনে বীজ, জাহাজ, টেক্সটাইল, মৎস্য আহরণ, ব্যাংক ও বীমার ব্যবসা রয়েছে। তিনি একসময় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও অন্যান্য খাতভিত্তিক ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয়। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। এ ছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবেও বিতর্কিত তিনি।

এর আগে, আইসিআইজের ফাঁস করা প্যারাইডস পেপারসেও নাম আসে আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও তার পরিবারের সদস্যদের। এ ছাড়া ২০১৮ সালে রাজস্ব ফাঁকি, সন্দেহজনক লেনদেন, বিদেশে অর্থ পাচার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে। মিন্টু ছাড়া আরও কয়েকজন বাংলাদেশির নাম প্যারাডাইস পেপারসে ছিল। আইসিআইজে প্রকাশিত ফাঁস করা অপর ডকুমেন্ট পানামা পেপারসেও কয়েকজন বাংলাদেশির নাম ছিল।

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেন হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, স্যার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। অনেকেই যোগাযোগ করেছেন, কারও সঙ্গে কথা বলেননি। ওই পেপারে (প্যান্ডোরা পেপারস) কী বলা হয়েছে, তা জেনে প্রয়োজনে আপনাদের (সাংবাদিকদের) জানানো হবে বলেও জানান তিনি।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ