30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

টিউলিপের গাড়িতে হামলাকারী কারা

প্রকাশিতঃ 05-10-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : লন্ডন পুলিশ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের গাড়িতে হামলাকারীদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে। ব্রিটিশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের সংখ্যা ছিল ১২ জন। এদের মধ্যে নয় জনই বাংলাদেশের নাগরিক, যারা অবৈধভাবে বা রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। বাকি তিন জনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। লন্ডন পুলিশ মনে করছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন তারা দাখিল করতে পারবেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিকের গাড়িতে হামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে দণ্ডিত এবং বহিষ্কৃত সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শহীদ, যুদ্ধাপরাধীদের দুই সন্তান এবং লন্ডনে বিএনপির কিছু ক্যাডার, যাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই হামলার মূল পরিকল্পনা করা হয় তারেক জিয়ার বাসভবনে এবং সেখানেই তারা এই হামলার ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ ব্যাপারে খুব শীঘ্রই তারেক জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য যে, টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার পর থেকেই তারেক জিয়া তাকে বিভিন্নভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। তার উপর একদিকে যেমন গণমাধ্যম লেলিয়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে তার নির্বাচনী এলাকায়ও অপপ্রচার করেছিল। এছাড়াও তারেক জিয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্যও প্রচুর অর্থ খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু এই সমস্ত ষড়যন্ত্র পাশ কাটিয়েই টিউলিপ সিদ্দিক তিন বার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি  নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি লেবার পার্টির একজন সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে ইতিমধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন।

পুলিশ গত শনিবার টিউলিপ সিদ্দিকের গাড়িতে হামলার ঘটনার পর এ ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত করছে এবং এই তদন্তের মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই তিনজনই যুক্তরাজ্য বিএনপি শাখা নেতা এবং এদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই কর্নেল শহীদ এবং যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের নাম এসেছে বলে জানা গেছে। 

কর্নেল শহীদ একজন বহিষ্কৃত সেনা কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ একাধিক মামলা রয়েছে এবং অন্তত তিনটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে এই বহিষ্কৃত সেনা কর্মকর্তা এখন লন্ডনে পালিয়ে রয়েছেন। 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলছে যে, এই বহিষ্কৃত রাষ্ট্রবিরোধী সেনা কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ইতিমধ্যে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এছাড়াও এই ঘটনার সঙ্গে আরো তিনজন ব্যক্তি জড়িত ছিল বলে জানা গেছে, যাদের পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক তারেক জিয়া এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রতিহিংসার আবহ তৈরি করার জন্যই তারেক জিয়া এই কাণ্ডটি করেছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

উল্লেখ্য যে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার সঙ্গেও তারেক জিয়া জড়িত ছিল এবং সেই ঘটনায় তারেক জিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দণ্ড নিয়েই তারেক জিয়া এখন রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। একাধিক সূত্র বলছে যে, বাংলাদেশ বিরোধী যে চক্র লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছে, তারাই এই হামলার সঙ্গে মূলত জড়িত।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ