30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

ম‌নোনয়ন জমা দেয়ার শেষদিনে জমজমাট আওয়ামী লীগের অফিস

প্রকাশিতঃ 06-10-2021



নিউজ ডেস্ক : নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে আওয়ামী লীগ। আজ বুধবার (৬ অক্টোবর) এই মনোনয়ন ফরম বিক্রি এবং জমা দেয়া শেষ হবে। শেষ মুহূ‌র্তে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি পার্টি অফিসে উৎসবমুখর পরিবেশে ম‌নোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন প্রার্থীরা। জানা গেছে, আগামী ৮ অথবা ৯ অক্টোবর আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং এই মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মনোনয়নের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আসন্ন এ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থী ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সকাল থেকেই ভিড় জমানো শুরু করেন আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি পার্টি অফিসে। দুপুর ১২টা নাগাদ মেলায় পরিণত হয় গোটা পার্টি অফিস। প্রতিটি মূহুর্তে উৎসবের সৌরভ ছড়াচ্ছে চারদিকের লোকারন্য। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, তারা আশাবাদী। দল মনোনয়ন দিলে দলকে হতাশ করবেন না তারা। 

চাঁদপুর সদরের ৮নং বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি অনেকগুলো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। দলীয় প্রতীকেও একাধিকবার মনোনয়ন চেয়েছে। কিন্তু পাইনি। তাই বলে কখনোই বিদ্রোহী প্রার্থী হইনি। দলের বিরুদ্ধে যাওয়ার রক্ত আমার শরীরে নাই। 

বিএনপির না আসাতে নির্বাচনে জৌলুস হারাবে কিনা জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম  বলেন, নির্বাচনে বিএনপি না থাকলেও হাত পাখা আছে এবং তারা জোরেশোরে প্রচারণাও চালাচ্ছে। কোনো ধরণের বাধা নেই। আশা করছি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তবে তিনি ছাড়া আরো দুই থেকে তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার ফলে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ানোর আশঙ্কাও করছেন তিনি।

সুনামগঞ্জের ৪নং মান্নারগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী সামছুউদ্দিন আহমেদ বলেন, এবার আমি ছাড়া আরো চার থেকে পাঁচ জন নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন চেয়েছে। তবে সবদিক বিবেচনায় আমি মনোনয়ন পাবো বলে আশা করি। 

এবারের মনোনয়ন ফরমে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নমালা রাখার বিষয়টিতে তিনি অত্যন্ত প্রফুল্ল্যবোধ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যারা তৃণমূল কর্মী, জিতলেও আওয়ামী লীগ। হারলেও তাই। আমাদের আদর্শের কোনো পরিবর্তন কখনো হয়নি। হবেও না। আদর্শ পরিবর্তন করে সিনিয়র নেতারা। মনোনয়ন না পেলেই অন্য দলে চলে যায়। কিন্তু এমনটা তৃণমূলে নেই। তবে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকা এবং দলের হাই কমান্ডের এ নিয়ে গড়িমসিতা দলকে ধীরে ধীরে দুর্বল করছে বলেও মনে করছেন তিনি। 

একই জেলার আজমীরগঞ্জ উপজেলার ৫নং শিবপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তফসির মিয়া জানান, এবারের মনোনয়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ১৬ সালের নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থী ছিলাম। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী সে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। এমপিসহ অধিকাংশ সিনিয়র নেতার ভূমিকাই সে নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এবারও আমি ছাড়া আরো দুই থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছে। যেহেতু নির্বাচনে বিএনপি নেই, ফলে এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। 

চাঁদপুর সদরের ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. কামাল হোসেন খান বলেন, আমি যদি মনোনয়ন পাই, তবে তার যোগ্যমূল্য দিবো। সমাজে মাদকের বিস্তার বেড়েছে। দেশ উন্নত হওয়ার ফলে অনেক নিত্য নতুন ‍সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমি মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সব স্তরের মানুষের মঙ্গলে কাজ করবো।

১৬ সালে এমপি নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালালেও আওয়ামী লীগের ভেতরকার একটি মহল বিরোধী প্রচারণা চালিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সেই মহল এবারও প্রার্থী হতে চায়। যারা কিছুদিন আগে বহিষ্কৃত হয়েছিল, তাদেরকে যদি নৌকার মাঝি করা হয় তাহলে বিপদ খুব নিকটেই বলেও শঙ্কিত তিনি।

এ দিকে ময়মনসিংহ জেলার ধুরাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আব্দুল বাতেন বলেন, আমি ১৬ সালেও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। তবে দল মনোনয়ন দেয়নি। ফলে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে জিতি এনেছি। এবারও মনোনয়ন না পেলে, যে পাবে তার পক্ষেই প্রচারণা চালাবেন বলে জানান তিনি।

নড়াইল সদরের শেখাহাটি ইউনিয়নের আছিয়া বেগম প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চেয়েছেন। হিন্দু অধ্যুষিত এ এলাকার চেয়ারম্যান হতে চাই জানিয়ে তিনি নিজের প্রসঙ্গে বলেন, আমি ২০০৩ সাল থেকেই মেম্বার পদে নির্বাচিত হয়ে আসছি। এ ছাড়া ২০০৫ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছি। ১৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থনে জনসংযোগ করেছি। এবার নিজেই চেয়েছি। না পেলেও কোনো সমস্যা নেই, দলের সঙ্গে চির জনেমের সম্পর্ক বলেও মনে করেন তিনি।

এ দিকে ঢাকা বিভাগের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দেয়া ও নেয়ার দায়িত্বে থাকা রাশেদুল মাহমুদ রাসেল জানান, আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নতুন করে ৪৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে মোট ৮৫৬টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। আজকে বিকেল নাগাদ আরো ৩০ থেকে ৪০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হতে পারে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়ন মনোনয়নপত্র দেয়া ও নেয়ার দায়িত্বে থাকা রাশেদুল বাশার ডলার, শওকত উসমান লিখন, শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, দুপুর ১২টা নাগাদ ১০০টিরও বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে। এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তারা।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বে থাকা মো. ফারুক মোল্লা, ভবেশ্বর রোয়াজা লিকি ও মো. রুহুল আমিন, এ বিভাগে মাত্র ৪৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। ফলে মনোনয়ন বিক্রিও অন্যান্য বিভাগের থেকে কম হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯৫টিরও বেশি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে থাকা মাহমুদুল আসাদ রাসেল জানান, প্রথম দিন ফরম বিক্রি হয়েছে ৩৫টি। এর পরের দিন ৫৮টি। তৃতীয় দিনে বিক্রি হয় ২৩০টি ফরম। চতুর্থ দিনে একটু কমে বিক্রি হয় ১৯৫টি ফরম। আর আজ এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ২৫টি ফরম।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ