30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

নির্বাচন নয়, সংগঠনই আওয়ামী লীগের প্রধান মাথাব্যথা

প্রকাশিতঃ 06-10-2021



নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পরপরই আওয়ামী লীগের মধ্যে এক ধরনের সাজ সাজ রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনই কি আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য, এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি ঘোষণার পরপরই বিএনপি সরব হয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলছে।  বিএনপি ইতিমধ্যে বলেছে যে, নির্বাচনের খেলা খেলতে দেওয়া হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামীতে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না ইত্যাদি। এ রকম বাস্তবতায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছে, তাহলে কি বাংলাদেশে আবার নির্বাচনী রাজনীতি শুরু হয়ে গেল! জাতীয় নির্বাচন হতে এখনো দুই বছর বাকি। এত তারাতারি নির্বাচনী আবহ তৈরি হওয়ার উদ্দেশ্য কি, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের আগাম নির্বাচনের আহ্বান একটি রাজনৈতিক কৌশল। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক অন্তঃকলহে জর্জরিত। শুধু কেন্দ্রীয় নয়, তৃণমূল পর্যন্ত দলের অন্তঃকলহ, বিরোধ সংক্রমিত হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি এখন প্রকাশ্য রূপ গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ যাদেরকে মনোনয়ন দিচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আওয়ামী লীগের নেতারাই প্রার্থী দাঁড় করাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে পাল্টা প্রার্থী এখন বিজয়ী হচ্ছেন। 

গত ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার নির্বাচনগুলো নির্বাহী পরিষদ এবং পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলগুলোবিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগই। এরকম পরিস্থিতিতে সারাদেশে সংগঠনটি 
একটি নাজুক অবস্থায় চলে গেছে। তাছাড়া দলের চেইন অফ কমান্ড প্রায় ভেঙে গেছে। দলের অনেক নেতাই ফ্রিস্টাইলে কথাবার্তা বলছেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে নোয়াখালী বসুরহাট পৌর মেয়র কাদের মির্জা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। 

অনেক নেতাই ইচ্ছেমতো দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনা করছেন। কদিন আগেই বগুড়ার এক স্থানীয় নেতা সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা করেছেন। এরকম বিশৃঙ্খলা অবস্থা আওয়ামীলীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে খুব কমই ঘটেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি দলে অনুপ্রবেশকারীদের দাপট বেড়েই চলেছে এবং অনুপ্রবেশকারীরা নানা কায়দায় নানা কৌশলে দলের বদনাম করছেন। এ রকম একটি বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের করণীয় কি, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নানামুখী চিন্তাভাবনা করছেন। 

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, সংগঠন ঠিক করার জন্যই আওয়ামী লীগ নির্বাচনের আওয়াজ তুলেছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকে যারা বিভক্তি তৈরি করছে ,কলকাঠি নাড়াচ্ছে এবং দলের মধ্যে অন্ত:কলহ সৃষ্টি করছে এরা সবাই হয় নির্বাচিত, না হলে মনোনয়ন প্রত্যাশী অথবা নির্বাচনে তাদের ভূমিকা আছে। কাজেই একমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে যদি একটি নীতিমালার মধ্যে আনা যায় তাহলে সংগঠনকে গোছানোর সম্ভব। আর সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ওষুধ হলো নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া। আওয়ামী লীগ সেজন্যই নির্বাচনের কার্ডটি সামনে এনেছে। এতে সংগঠনে যারা বিভক্তি তৈরি করছে, একে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তারা সতর্ক হবে। নির্বাচন কথাটি মাথায় আসলেই আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি আসে। আর তখন তারা এইসব বিরোধ, বিতর্ক থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে চায়। কাজেই আগাম নির্বাচনের আওয়াজ সংগঠন গুছানোর একটি কৌশল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ