30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

আগাম কাউন্সিলে সমাধান খুঁজছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিতঃ 18-11-2021



নিউজ ডেস্ক : আগামীকাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। দলে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। ১৩১ টি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি। তারা বিজয়ী তো নয়, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়ও হতে পারেনি। আবার দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪২ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। এই অবস্থা আওয়ামী লীগের জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, পরিস্থিতি খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। তাছাড়া তৃণমূলের নেতারা এখন কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা শুনছেন না। দলের ভিতরে কোন শৃঙ্খলা নেই। ফ্রি স্টাইলে চলছে সবকিছু। এখন পর্যন্ত দুই দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মারা গেছে ৪০ জনের বেশি। আহত হয়েছে ৫ সহস্রাধিক।

পরিস্থিতিকে সামাল দেওয়ার কৌশল নির্ধারণের জন্য আগামীকাল কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের যে পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের একটাই সমাধান তা হল আগাম কাউন্সিল করা। আগাম কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি এবং নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তার অন্তঃকলহ থেকে মুক্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। যদিও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ইস্যুটি সামনে আসছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে তৃণমূলের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তৃণমূল আগে থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষুব্ধ ছিল এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের এক ধরনের প্রকাশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে,  তৃণমূলের নেতারা মনে করেন যে কেন্দ্রীয় নেতারা এখন তাদের সাথে প্রভুর মতো আচরণ করেন। তাদের কোন কোন সমস্যায় পাওয়া যায় না। তৃণমূলের নেতারা মনে করেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি পাঁচ বছর আগে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এটা করেনি।  আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা মনে করেন যে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তার নিজের ভাইকেই ম্যানেজ করতে পারেনি। তার ভাই যেভাবে দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড করেছেন এবং বক্তব্য রেখেছেন তার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কাজেই তিনি অন্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন? 

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলের অভিযোগ হলো, প্রথমেই বলা হয়েছিল যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা দলের প্রতীক এর বাইরে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাদেরকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। তারা যেন ভবিষ্যতে নৌকা প্রতীক না পায় তাও নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় নেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতির সেই নির্দেশ প্রতিপালন করে নি। যার ফলে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি হয়েছে বলেও তারা মনে করেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বলেন যে, বারবার বলা হচ্ছে অনিষ্পন্ন কমিটিগুলো সম্পন্ন করতে এবং দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিতদেরকে নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু এখনো এমপিরাই স্থানীয় কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন এবং তারা কোনোভাবেই তাদের অনুসারীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সরাতে রাজি নন। আর এখন এমপিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি জোগসাজোশ রয়েছে, যার ফলে তারা শেষ পর্যন্ত এমপিদের কথাই শুনছেন। এরকম একটি পরিস্থিতিতে উত্তোরণের একটিই পথ রয়েছে তা হলো আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সম্পন্ন করা। আগামী বছরের কোন এক সময়ে কাউন্সিল সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মী মনে করছেন।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ