30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

সঞ্জীব চৌধুরী চলে যাওয়ার ১৪ বছর

প্রকাশিতঃ 19-11-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : খ্যাতনামা সাংবাদিক-সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর অনেক দূরে চলে গেছেন এই শিল্পী। না, তাকে কেউ আটকে রাখতে পারেনি। বন্ধন, মায়া কিংবা প্রেম—সবকিছু উপেক্ষা করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। আজ তার প্রস্থানের ১৪ বছর পূর্ণ হলো।

১৯৬৪ সালে ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সঞ্জীব চৌধুরী। তার পিতার নাম গোপাল চৌধুরী, মা প্রভাষিনী চৌধুরী। নয় ভাই-বোনের মধ্যে সপ্তম ছিলেন তিনি। হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর ঢাকার বকশী বাজার নবকুমার ইনস্টিটিউটে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৭৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ভর্তি হন; কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শেষ না করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

আশির দশকের শুরুর দিকে তিনি পেশাগতভাবে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমে দৈনিক উত্তরণে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ‘ভোরের কাগজ’,‘আজকের কাগজ’, ‘যায় যায় দিন’ প্রভৃতি দৈনিক পত্রিকায় কাজ করেন সঞ্জীব চৌধুরী। দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে ফিচার বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রে সঞ্জীব চৌধুরী বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৩ সালে একুশে বইমেলায় তিনি ‘মৈনাক’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

১৯৯৬ সালে ‘দলছুট’ ব্যান্ডটি গঠন করার আগেই বাপ্পা মজুমদার ও সঞ্জীব চৌধুরী একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। দলের বাইরেও তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। দলছুটের প্রথম অ্যালবাম ‘আহ’। এটি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর ‘হৃদয়পুর’, ‘স্বপ্নবাজি’, ‘আকাশচুরি’, ‘জোছনা বিহার’, ‘টুকরো কথা’, ‘আয় আমন্ত্রণ’ প্রভৃতি। এর মধ্যে ‘স্বপ্নবাজি’ ছিল সঞ্জীব চৌধুরীর একক অ্যালবাম। ২০০৭ সালে প্রকাশিত ‘টুকরো কথা’ অ্যালবামটি সঞ্জীবের মৃত্যুর পর তার প্রতি শ্রদ্ধার্থে প্রকাশিত হয়। এতে তার লেখা কবিতাগুলোর সংকলন ছিল। এছাড়া ‘আয় আমন্ত্রণ’ হচ্ছে ব্যান্ডটি ষষ্ঠ ও সর্বশেষ অ্যালবাম। ২০১০ সালের সঞ্জীব চৌধুরীর ৪৭তম জন্মদিনে ‘সঞ্জীব উৎসব’ পালনের মধ্য দিয়ে এই অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামের ‘নতজানু’ নামে সর্বশেষ গানটি সঞ্জীব চৌধুরীর লেখা।

সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো হলো—‘বায়স্কোপ’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ’, ‘আমি তোমাকেই বলে দিব’, ‘রিকশা’, ‘কথা বলব না’, ‘সাদা ময়লা রঙ্গিলা পালে আউলা বাতাস খেলে’, ‘চোখ’, ‘তখন ছিল ভীষণ অন্ধকার’, ‘আহ ইয়াসমিন’ প্রভৃতি।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ