30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অন্তহীন অভিযোগ

প্রকাশিতঃ 19-11-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক আজ শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে (বিকেল ৪টায়) গণভবনে এই বৈঠক শুরু হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং চেইন অব কমান্ড নষ্ট হওয়া নিয়ে এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের অন্তহীন অভিযোগ। কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে তৃণমূলের হাজার হাজার অভিযোগ এসে জমা হয়। তিন নাম্বারে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এসব অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগগুলো মূলত মনোনয়ন বিতর্ক নিয়ে। মনোনয়ন বিতর্ক এবং মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে। যেভাবে বিএনপি-জামাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই সম্পর্কে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

যদিও প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই অভিযোগগুলো কে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, পছন্দ না হলেই কাউকে রাজাকার বলা হয় বা রাজাকারের আত্মীয় বলা হয়, এই প্রবণতা দেখা দিয়েছে এবং এরকম হাজার হাজার অভিযোগ আসছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেকটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর এই অভিযোগগুলোকে বাছাই-যাচাই করছে এবং যে সাংগঠনিক সম্পাদকের এলাকার মধ্যে এটি পড়ছে তাকে অভিযোগের সংক্ষিপ্তসার দেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়েই নয়, তৃণমূল অনেক ধরনের অভিযোগই এখন করছে। এর মধ্যে রয়েছে- সম্মেলন যথা সময়ে না করা। সম্মেলনে এমপিদের অনুগত ব্যক্তি এবং অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিডদের কমিটিতে রাখা, বিতর্কিতব্যক্তিদের দলে ভেড়ানো এবং দলের শৃঙ্খলা এবং আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড করা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ হাজারের বেশি অভিযোগ আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে জমা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো কিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে সেটি আজকের বৈঠকে আলোচনা করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর একটি প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কিছুতেই স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল মনে করছে না অধিকাংশ তৃণমূল। আওয়ামী লীগের এখন এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে একমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়া কারো প্রতিরই তৃণমূলের আস্থা নেই। আওয়ামী লীগ সব সময় মনে করে তৃণমূলই তাদের শক্তি এবং এই তৃণমূলের শক্তির কারণে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সংকটে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে যে, তৃণমূলই যেন আক্রান্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক তৃণমূলের নেতা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। এই জন্যই তৃণমূলে হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী, রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে আনা হচ্ছে। দলের ত্যাগী, পরীক্ষিতদের কোণঠাসা করা হচ্ছে। তৃণমূল যে শুধু অভিযোগ করে ক্ষান্ত হচ্ছে তা না। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোথাও কোথাও তৃণমূলের রীতিমত বিদ্রোহ হচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী যাদেরকে দেওয়া হয়েছে তাদের একটি বড় অংশই তৃণমূলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত। তারা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন এক ধরণের প্রতিবাদে। বিশেষ করে দলে এমপি এবং প্রভাবশালীদের মনোনীত সুবিধাবাদী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ত্যাগী এবং পরীক্ষিত ব্যক্তিরা দাঁড়িয়ে একটি প্রতিবাদ করেছেন এবং অনেক জায়গায় তারা বিজয়ী হয়েছেন। আর এ কারণেই তৃণমূলের এই অভিযোগগুলো কিছুতে আমলে না নেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির উপর তা প্রভাব ফেলতে পারে।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ