30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

রাজনীতিতে জাহাঙ্গীর আলমের উত্থানটা ছিলো যত তাড়াতাড়ি, পতনও হলো তার চেয়েও দ্রুত

প্রকাশিতঃ 20-11-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : জাহাঙ্গীর আলম। মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই হয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ছিলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। গতকাল নিজ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হলেন তিনি। রাজনীতিতে জাহাঙ্গীর আলমের উত্থানটা ছিলো যত তাড়াতাড়ি, পতনও হলো তার চেয়েও দ্রুত। অল্প সময়ে রাজনীতিতে দ্রুত সময় অনেক কিছু অর্জন করলেও এক ঝটকায় ছিটকে গেলেন রাজনীতির মাঠ থেকে, এমনটাই মনে করছেন গাজীপুর আওয়ামী লীগ সহ সারাদেশের নেতাকর্মীরা। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের এই পতনের পেছনে তার সম্পদ, টাকা-পয়সা, বিত্ত-বৈভব দায়ী? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি গাজীপুর সদর ও টঙ্গী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজনীতির বাইরে জাহাঙ্গীর আলম একজন ব্যবসায়ী। তিনি অনারেবল টেক্সটাইল এন্ড কম্পোজিট লিমিটেড এবং জেড আলম অ্যাপারালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জাহাঙ্গীর আলম ২০১৩ সালের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার কারণেই সে সময় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা আজমত উল্লাহ পরাজিত হয়েছিল। গাজীপুরে আওয়ামী লীগেরনেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম ডাক সাইটে হয়ে উঠেন। তিনি নিজের নিজস্ব বলয় গড়েন। ঝুটের ব্যবসা করে বিপুল অর্থের মালিক বনে যান জাহাঙ্গীর। তিনি নিজের নামে একটি ফাউন্ডেশন করে সমান্তরাল একটি শক্তি সৃষ্টি করেন। এরপর ক্রমশ গাজীপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের টিকিটে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন তিনি। এরপর তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সহযোগিতা না করা, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা অমান্য করা, স্বেচ্ছাচারিতা সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। অর্থের জোরেই তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও দাবি করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে কটূক্তি করেন। এমনকি রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়েও নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন তিনি। জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এ ঘটনায় রাজনীতির অঙ্গনে জাহাঙ্গীরের বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। গত ৩ অক্টোবর দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করে আওয়ামী লীগ। নোটিশের ১৫ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে জবাব দিতে বলা হয়। শোকজের জবাব দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান জাহাঙ্গীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমা পাননি তিনি।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ