30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

বিসিবির অদক্ষতার শেষ কোথায়?

প্রকাশিতঃ 22-11-2021



স্পোর্টস ডেস্ক : চলছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ। ইতিমধ্যেই সিরিজ হার নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দল। এবার হোয়াইট ওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে আজ (২২ নভেম্বর) সফরকারীদের বিপক্ষে মাঠে নামবে  টাইগাররা। বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর দলে একাধিক  পরিবর্তন এনে পাকিস্তান সিরিজের টি-টোয়েন্টির জন্য দল ঘোষণা করে বিসিবি। দলে পরিবর্তন আসলেও, পরিবর্তন আসেনি ফলে। টাইগাররা বিশ্বকাপের মতো ব্যর্থ সময় পার করছে ঘরের মাঠেও। প্রথম দুই ম্যাচের পর আবারও বিসিবি পরিবর্তন আনে দলে। একই সিরিজ চলাকালীন সময়ে যৌক্তিক কারণ ব্যতীত সিরিজের মাঝপথে দলে পরিবর্তন এনে বিসিবি যেনো অদক্ষতারই পরিচয় দিলো। 

সিরিজ শুরুর আগে পাকিস্তান সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করে বিসিবি। যেখানে রাখা হয়নি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়া লিটন দাস ও সৌম্য সরকারকে। তাছাড়া মুশফিককে দেয়া হয় বিশ্রামও। পাকিস্তান সিরিজে প্রথম বারের মতো ডাক পেয়েছিলেন আকবর আলি। দলে ফিরেছিলেন শান্ত ও বিপ্লব।

আকবরের দলে ডাক পাওয়া ছিল একেবারেই চমক। কারণ জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলেন না যুব বিশ্বকাপজয়ী এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। হঠাৎ করে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে বিসিবি। তাছাড়া টেস্ট দলের নিয়মিত মুখ সাইফ হাসানকে টি-টোয়েন্টি দলে রেখেও সমালোচনার শিকার হয় বিসিবি। পাকিস্তান সিরিজের জন্য ক্যাম্পে থাকা দুই ক্রিকেটার ইমন ও হৃদয়কেও শুরুতে ঘোষিত দলে রাখেনি বিসিবি। ক্রিকেট ভক্তদের মনে প্রশ্ন উঠে, যদি তাদেরকে দলের জন্য বিবেচনায় না রাখা হয় তাহলে তাদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে রেখে অনুশীলন করানোর মানে কি? আর জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া আকবর আলিই বা কেনো তাহলে দলের ক্যাম্পের প্রাথমিক অনুশীলনে ছিল না।

নির্বাচকদের আরও অদক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায় প্রথম  দুই ম্যাচ পর আবারও দলে পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়ে। আগের স্কোয়াডে থাকা সাইফ হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের বদলে দলে নেয়া হয়েছে পারভেজ ইমন ও পেসার কামরুলইসলাম রাব্বিকে।

প্রথম দুই ম্যাচে আশানুরূপ ফলাফল না করতে পারায় অভিষিক্ত সাইফকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১ রান ও দ্বিতীয় ম্যাচে ০ রান করে ফেরেন তিনি।   অপরদিকে মোস্তাফিজকে তৃতীয় ম্যাচে রাখা হয়নি, কারণ দ্বিতীয় ম্যাচে একজন দর্শক তার কাছে চলে যায়। এতে করে তিনি যে বায়ো বাবলে ছিলেন সেটি শেষ হয়ে গেছে। ফলে তাকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিতে হয়েছে।

বার বার নতুন নতুন তরুণ ক্রিকেটারদের একের পর এক অভিষেক করাচ্ছে বিসিবি। অথচ আগের পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের যেনো বিসিবি দেখেও দেখে না। এক সময়কার জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ মেহেদি হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকি, আনামুল হক বিজয় সহ ঘরোয়া লীগে পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের পরিবর্তে একদমই অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের হঠাৎ করে মাঠে নামিয়ে দেয়া আবার কিছু ম্যাচ সুযোগ দিয়ে বাদ দিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে বিসিবি শুধু ঐ ক্রিকেটারের মনোবলই নস্ট করছে না, নস্ট করে ফেলছে তার ভবিষ্যৎও।

একজন ক্রিকেটার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া মানে তার ভেতরে অবশ্যই ভালো প্রতিভা, মেধা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে একজন ব্যাটসম্যান হয়তো নিজেকে মেলে ধরতে পারছে না। সেক্ষেত্রে নানা কারণ থাকতে পারে। বিসিবি কি কখনো সে সব নিয়ে কাজ করেছে? ক্রিকেটারদের মানসিক দিক নিয়ে কাজ করেছে? বিসিবির উচিৎ, ক্রিকেটারদের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারকেও গুরুত্ব দেয়া।

একজন ক্রিকেটারের খারাপ সময়ে  তাকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেয়া অদৌ কোনো সমাধান হতে পারে না। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা হিসেবে বিসিবি যেমন তরুণ ক্রিকেটারদের দিকে নজর রাখবে তেমনি অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত ক্রিকেটাররা পারফর্ম করলে তাদের সেই পারফর্মের মূল্যায়ন করাটাও বিসিবিরই দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু সিরিজের দল ঘোষণা দেখলে যেনো মনে হয়, এত বছর পরও বিসিবি নিজেদের দায়িত্বটুকুই ঠিক ভাবে বুঝতে পারেনি।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ