30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

মন্ত্রী-এমপি নন এমন নেতাদের প্রভাব বাড়ছে আওয়ামী লীগে

প্রকাশিতঃ 22-11-2021



নিউজ ডেস্ক : দল এবং সরকারকে আলাদা করার যে উদ্যোগ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেছিলেন তা এখন অনেকটাই সাফল্যের মুখ দেখছে। সর্বশেষ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে দলে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠল মন্ত্রী-এমপি নন, এমন নেতারা। তারাই এখন দল পরিচালনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। গত দুটি কাউন্সিল থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি সরকার এবং দলকে আলাদা করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন এবং যারা দলে থাকবেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন তারা মন্ত্রী হতে পারবেন না এরকম একটি নীতিকৌশল তিনি প্রচ্ছন্নভাবে অনুসরণ করে চলেছেন। যদিও এখনও বেশ কয়েকজন ভাগ্যবান আওয়ামী লীগের নেতা রয়েছেন, যারা দলের নেতৃত্ব এবং মন্ত্রিত্ব দুটিই উপভোগ করছেন। কিন্তু সেই জায়গা যে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে তা বোঝা যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কৌশল থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। তার বদলে দলে যারা এমপি-মন্ত্রী নন পূর্ণকালীন ভাবে কাজ করছেন তাদের প্রভাব বেড়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন:

জাহাঙ্গীর কবির নানক: জাহাঙ্গীর কবির নানক ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। কিন্তু সেই সময় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে পদোন্নতি দিয়ে গত কাউন্সিলে প্রেসিডিয়ামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রেসিডিয়ামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি দলের অন্যতম নীতিনির্ধারকে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা যায় এবং শেখ হাসিনার নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি আস্থাভাজন একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

আব্দুর রহমান: আব্দুর রহমানও গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তাকেও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক থেকে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনিও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেই পূর্ণকালীন মনোনিবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম গত কমিটিতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এবার পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তিনি তৃণমূলের অন্যতম ত্রাতা নেতা হিসেবে এখন পরিচিত। বাহাউদ্দিন নাছিম তৃণমূলের সবচেয়ে পছন্দের ব্যক্তি এবং তৃণমূলের বিভিন্ন সংকট-সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাকেই সবচেয়ে বেশি তৎপর দেখা যায় বলে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন এবং সাংগঠনিক বিষয়ে তিনিঅত্যন্ত মনোযোগী।

এসএম কামাল: এসএম কামাল একজন সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও তিনি দলের কার্যক্রমের অন্যতম প্রাণ ভোমরা হিসেবে পরিচিত। দলের কার্যক্রম গুলোকে পরিচালিত করা এবং দলের সভাপতির সিদ্ধান্তগুলোকে তৃণমূলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসএম কামাল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

বিপ্লব বড়ুয়া: বিপ্লব বড়ুয়া আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা। দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও কেন্দ্রীয় নেতা এবং দলের সভাপতির মধ্যে সেতুবন্ধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

আবার বেশ কয়েকজন নেতা আছেন যারা মন্ত্রী নন কিন্তু এমপি, তারাও সাংগঠনিকভাবে দলের জন্য বিস্তর সময় দিচ্ছেন এবং দলের তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন:

মাহবুব উল আলম হানিফ: মাহবুব উল আলম হানিফ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তিনি এমপিও বটে। কিন্তু দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাকে অত্যন্ত সক্রিয় দেখা যায়। দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মির্জা আজম: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ছয়বারের এমপি। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি অনেক বেশি তৎপর এবং ব্যস্ত বলে দলের নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ঢাকা অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার কারণে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

আস্তে আস্তে এটি প্রমাণিত হচ্ছে যে, যারা মন্ত্রী নন তারাই দলের জন্য বেশি সময় দেন। মন্ত্রিত্ব এবং দল পরিচালনা দুটো একসাথে বর্তমান বাস্তবতায় করা যে কঠিন সেটি বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। আর সে কারণেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণতা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। দল এবং সরকারকে আলাদা করে তিনি সংগঠনের চাকাকে সচল রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই উদ্যোগ এখন সাফল্যের মুখ দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে ধারণা করা হচ্ছে যে, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে স্থবিরতা দূর করার জন্য তিনি আরও তৎপর।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ