22 January, 2022 (Saturday)
শিরোনাম

খালেদার ভুল চিকিৎসা: সন্দেহের তীর জোবাইদার দিকে

প্রকাশিতঃ 23-11-2021



নিজস্ব প্রতিবেদক : এভারকেয়ার হাসপাতাল সিসিইউতে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার লিভার জটিলতা আগের মতোই রয়েছে। এই জটিলতা স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে বলে চিকিৎসকরা বললেও তার কোনো উন্নতি না হওয়াটাই অবনতির লক্ষণ বলে চিকিৎসকরা মন্তব্য করছেন। আর এর চিকিৎসা দুটি, একটি গুলো স্টেম সেল দেওয়া। অন্যটি হলো তার লিভার প্রতিস্থাপন করা। এখন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দুটির একটির ব্যাপারেও কোনো সম্মতি দেওয়া হয়নি। এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্র বলছে যে, এই দুটি চিকিৎসাই এভারকেয়ার হাসপাতালে সম্ভব এবং বিশ্ব মানের চিকিৎসা দেয়ার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই লক্ষ্যে এভারকেয়ার হাসপাতাল কাজ করছে। কিন্তু কেমন করে বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলো, এর ব্যাখ্যা দিতে যেয়ে চিকিৎসকরা বলছেন যে, দীর্ঘদিন ভুল চিকিৎসার কারণেই তার এই সংকট হতে পারে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান চিকিৎসক হলো হলেন ডা. জোবাইদা। তারেক জিয়ার বিয়ের পর থেকে জোবাইদাই বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাসংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয় দেখভাল করেন এবং তারেক জিয়া যখন লন্ডনে চলে গেলেন সেখান থেকেও জোবাইদা টেলিফোনে বিভিন্ন ঔষুধপত্র দিতেন এবং বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ যুক্তরাজ্যে গিয়ে চিকিৎসক দেখেছেন এবং সেই চিকিৎসকরা যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছিল সেই প্রেসক্রিপশন ডা. জোবাইদা পরিমার্জন করে চূড়ান্ত করে দিয়েছিলেন। কোন ঔষধ কিভাবে খেতে হবে এটি জোবাইদাই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালে অন্তত দুজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, এই ঔষধগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে বেগম খালেদা জিয়ার লিভারের জটিলতা বাড়তে পারে। এমনকি তার যে ডায়াবেটিস সেটিও ভুল চিকিৎসার কারণেই হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া ২০০৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। কারাগারে তাকে যে চিকিৎসকরা দেখেছিল এবং যে সমস্ত ওষুধ দিয়েছিল সেটির কোনটাই বেগম খালেদা জিয়া গ্রহণ করেননি। বরং লন্ডনে থেকে জোবাইদা যে ঔষধগুলো দিয়েছিল সেই ঔষধের উপরই তিনি নির্ভরশীল ছিলেন। পরবর্তীতেতাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হলে সেখানেও তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি চিকিৎসকরা তার কয়েকটি ওষুধ পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করলেও সেটি তিনি গ্রহণে অপারাগতা প্রকাশ করেন। পুত্রবধূর প্রতি তার অকুণ্ঠ বিশ্বাস এবং সমর্থন ছিল। যে কারণে তিনি অন্য চিকিৎসকদের রীতিমতো অবিশ্বাস করেছেন। প্রথম বিষয়টি ধরতে পারেন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের নিয়ে যে প্যানেল গঠিত হয় তার মাধ্যমে। সেই প্যানেলের একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এই ঔষধগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। কিন্তু তিনি যখন জানতে পারেন যে এটি ডা. জোবাইদা দিয়েছেন তখন তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, যে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডায়াবেটিস এবং লিভারের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে ভুল ঔষধ দেওয়া হয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি যেন ভবিষ্যতে এসব নিয়ে কথা না বলেন এজন্য তাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। বেগম খালেদা জিয়ার একসময় একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন লিভার বিশেষজ্ঞ, যিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে চাকরীচ্যুত করা হয়। তিনি এখন স্কয়ার হাসপাতালে রয়েছেন। একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকলেও এখন তিনি বিএনপির কোনো রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত নন। সেই চিকিৎসককেও বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসক প্যানেল রাখা হয়নি, যিনি বাংলাদেশের একজন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লিভার বিশেষজ্ঞ। ডা. জোবাইদা লিভার বিশেষজ্ঞ নন এবং তিনি কিভাবে লিভার জটিলতার চিকিৎসা করেছেন সেটা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু যেহেতু তিনি তারেক জিয়ার স্ত্রী সেজন্য বিষয়টি সকলে চেপে গেছে। এখন এভারকেয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, কিছু কিছু ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক কিছু কিছু অঙ্গ প্রত্যঙ্গে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এটা কি ইচ্ছাকৃত না অজ্ঞতাপ্রসূত, এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা রকম গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে মনে করছেন যে, তারেক জিয়া যেহেতু ক্ষমতালিপ্সু এবং অত্যন্ত লোভী, সেজন্য তিনি তার স্ত্রীকে দিয়ে এরকম ভুল চিকিৎসা করিয়েছেন কিনা। তবে কেউ কেউ মনে করেন যে, এটি নিছকই ভুল। বেগম খালেদা জিয়া তার পুত্রবধূর উপর অতিশয় নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু এই ধরনের চিকিৎসার জন্য তিনি যথাযথ চিকিৎসক নন।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ