30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

বিএনপি কি আলোর দেখা পাবে?

প্রকাশিতঃ 24-11-2021



নিউজ ডেস্ক : প্রায় দেড় বছর করোনায় স্থবির ছিল জনজীবন। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সবখানে মহামারির প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। কিছুদিন ধরে দেশে করোনা সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণে এবং একইসঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং চলমান ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতিতে কিছুটা উত্তাপ চলছে। বিশেষ করে বিরোধী সব দলই সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে চাঙ্গা করতে চাচ্ছে আন্দোলন-সংগ্রামের ক্ষেত্র। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন শুরুর চেষ্টা করছে বিএনপি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে রাজপথে সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে বিএনপির নেতা কর্মীরা। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বিএনপি সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের গতি বাড়াতে চায় বলেও বিএনপির অনেকে মনে করেন। তবে এর বিপরীত মতও দিচ্ছেন বিএনপির একাংশ। এ রকম পরিস্থিতিতে আধাঁরে নিমজ্জিত বিএনপির গতিবিধি নিয়ে বেশ কৌতুহল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। ক্ষমতার বাইরে থাকতে থাকতে দলটি এলোমেলো সময় পার করছে এখন। চার দশকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির যে পরিপক্বতা অর্জন করার কথা ছিল, তা মূলত পারেনি নেতৃত্বের দোদুল্যমানতা, সিদ্ধান্তহীনতা ও ক্ষেত্রবিশেষে নেতাদের হঠকারিতার জন্য। পাশাপাশি জামায়াতের সঙ্গে হরিহর আত্মার সম্পর্কও দলটিকে রীতিমত বেকায়দায় ফেলেছে। দলটি কখন কি করবে, দলটির কে কি বলবে, বর্তমানে তা বোঝা অত্যন্ত মুশকিল। তাদের এই আচরণে দেশবাসী তো বটেই, দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও হতাশ। বিরোধী দলের ওপর জনগণের ভরসা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবতা হলো মানুষ বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির প্রতি আস্থা হারিয়েছে।

সাধারণ মানুষ বলছে যে, এই মূহুর্তে বিএনপির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তারা রাজনীতি করছে না। বিএনপি একটি বড় দল। জনসমর্থন আছে, ভোটারও আছে। স্বভাবতই নাগরিকেরা দলটির কাছে গোছানো ও পরিকল্পিত রাজনীতি আশা করে। গণতন্ত্রের লড়াই মানেই জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন না। সময়োপযোগী নানা কর্মসূচি দিয়েও দাবি আদায় করা যায়, জনগণকে আকৃষ্ট করা যায়। বেলারুশে আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে লাখো মানুষ পথে নেমেছে। সেখানে জ্বালাও-পোড়াও হয়নি। প্রতিদিনই মিছিলে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিএনপির মিছিলে সেই শান্তিপূর্ণ মানুষ কই।

বিএনপির নেতারা অবশ্য এর উল্টো কথা বলছেন। তারা বলছেন যে, সুচিকিৎসার অভাবে বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের পতন হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য লড়াই করে যাবে।
প্রতিটি নেতাকর্মীই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপির তরুণ নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নেতাকর্মীদের কাঁথা-বালিশ নিয়ে রাস্তায় ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। 

তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে বেশ সতর্ক। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এক দফা অথবা ১০ দফা আন্দোলন করুক, তাতে আওয়ামী লীগের কিছু যায় আসে না। কারণ আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগের আরেক নেতা ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে বিএনপি রাজপথে অবস্থান প্রসঙ্গে বলেন, প্রথমত তারা এ ধরনের দাবি বহুবার উপস্থাপন করেছেন। মাঝে মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টাও তারা চালিয়েছেন। এবার যদি বিশৃঙ্খলা করার অপচেষ্টা হয়, জনগণ সেটি কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে। সরকার জনগণের সঙ্গে থাকবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার যতটুকু আন্দোলন করলে তাদের ক্ষমতা রক্ষার হুমকি হবে না বলে মনে করছে, ততটুকু করতে অনুমতি দিচ্ছে অথবা নানান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিরোধীদের ততটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে আসনসংখ্যা যত কমই হোক না কেন, এখনও বিএনপিই দেশের প্রধান বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিদিনকার বক্তৃতা-বিবৃতির লক্ষ্যবস্তুও বিএনপি। জাতীয় পার্টিকে মনে করা হয় সরকারের ‘ঘরের লোক’ বা ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল। বুদ্ধিদীপ্ত, গঠনমূলক রাজনীতি থেকে বিএনপির অবস্থান যোজন যোজন দূরে থাকায়  ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা-অক্ষমতার ফসল যে বিএনপি ঘরে তুলে নেবে, তার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপির রাজনীতি ও সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারবাংলা ইনসাইডারকে বলেন, বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে বলতে হলে আমাকে জ্যোতিষ হতে হবে। তাদের সবচেয়ে বড় সংকট হল নেতৃত্বের সংকট। তাদের সমর্থক আছে, কিন্তু তাদের নেতৃত্ব নেই। যেই বিষয় নিয়ে তারা আন্দোলন করছে, আমি মনে করি না এটি রাজপথের আন্দোলনের বিষয়। এটি হলো মানবতার বিষয়, সহনশীলতার বিষয় এবং একই সঙ্গে সহমর্মিতার বিষয়। এটা সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই সমাধান করা উচিত। রাজপথে কোনো কিছু সমাধান হয় না। রাজপথের সমাধান সাময়িক সমাধান। এটা ভবিষ্যতে আরো প্রকট আকার ধারণ করে। রাজনীতি হল আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো, ছাড় দেওয়া। এটাকে বলে রাজনীতি। রাজনীতি হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া। সমাধানের প্রক্রিয়া, সমস্যা সৃষ্টি করার নয়। আমি আশাকরি রাজপথের পরিবর্তে বিএনপি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে। সরকার এই বিষয়ে বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ