30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র কি চীন-ফিলিপাইন সংঘাতে জড়াবে?

প্রকাশিতঃ 24-11-2021



অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনও পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ে সবার আগে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের নীতি বজায় রেখেছে। ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি (এমডিটি) স্বাক্ষর হয়েছিল। সেই চুক্তিতে কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশটির তাতে জড়িয়ে পড়ার ধারা রয়েছে। একটা সম্ভাবনা হলো, ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী চীনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ফিলিপাইন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাবে তাদের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র তখন চীনের সঙ্গে সংঘাতের পথে যেতে পারে, তাতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

চীনের কোস্টগার্ড ১৬ নভেম্বর ফিলিপাইনের বেসামরিক জাহাজের গতিরোধ করে এবং জলকামান ব্যবহার করে সেগুলো আটকে দেয়। স্প্রারটলি দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ফিলিপাইনের দ্বিতীয় থমাস শোল নৌঘাঁটির জন্য রসদ নিয়ে যাচ্ছিল ওই জাহাজগুলো। ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, চীনের আটকে দেওয়া জাহাজগুলো বেসামরিক হলেও নৌবাহিনী সেগুলো ভাড়া করায় এমডিটি চুক্তির শর্ত এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চীনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে নিবৃত্ত থাকার কথা বলেছে। তারা ফিলিপাইনকে মার্কিন সেনা পাঠানোর কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন জাহাজে সশস্ত্র হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার রক্ষা করবে।

এমডিটির ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘যেকোনো এক পক্ষের ওপর যদি হামলা হয়, তাহলে দুই পক্ষই তাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেবে। যেকোনো পক্ষের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।’ এটা স্পষ্ট যে দ্বিতীয় থমাস শোলেতে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের লঙ্ঘন। ভাটি অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করার কোনো এখতিয়ার চীনের নেই। আইনগতভাবে ফিলিপাইনই সেটার দাবিদার। ম্যানিলা সরকারকে কোনো ধরনের ধন্দ না রেখে এখন সুস্পষ্ট করে বলে দেওয়া উচিত চীনের সঙ্গে তারা যদি কোনো সশস্ত্র সংঘাতে জড়ায়, সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। অনিশ্চয়তা ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি তৈরি করে। নিজেদের মিত্রকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই চীনকে নিরস্ত্র করার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। 

ফিলিপাইনের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব এ ঘটনায় নীরব রয়েছে। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় সময়ক্ষেপণ করছে এবং ভেতরে ভেতরে চিন্তা করছে তাদের হাতে কী কী বিকল্প আছে। আগামী বছর ফিলিপাইনের নির্বাচনে আরও বেশি মার্কিনঘেঁষা ও চীনবিরোধী কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। সেই প্রেসিডেন্ট চীনের সঙ্গে ফিলিপাইনকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী করবে। তবে এ ধরনের সামরিক সংঘাত খুব তাড়াতাড়ি ঘটবে বলে মনে হয় না।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ