30 November, 2021 (Tuesday)
শিরোনাম

‘আমরা বাকি জীবন আপনাকে মিস করব’

প্রকাশিতঃ 25-11-2021



স্পোর্টস ডেস্ক : ঠিক এক বছর আগে এই দিনে স্তব্ধ হয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে হারানোর শোক আজও বিমর্ষ করে দেয় ফুটবল ভক্তদের। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর চলে গিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে যদিও এখনও অনেক রহস্য রয়েছে। ঠিক কি কারণে, কিভাবে মারা গেলেন সেটাও অনেকটাই অস্পষ্ট। তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এ ছাড়াও নানারকম শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় কিডনি, লিভার নিয়ে জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তবে অনেককেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এখনও তদন্ত চলমান তার মৃত্যু নিয়ে। আবার মৃত্যুর এক বছর পরও তার নারী কেলেঙ্কারির নানা দিক উঠে আসছে।

আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে আজ ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। মাঠে খেলোয়াড়েরা ‘১০’ সংখ্যার আদলে দাঁড়াবেন—ম্যারাডোনার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিকে সম্মান জানিয়ে। বুয়েনস এইরেসের যে বস্তিতে ম্যারাডোনা বেড়ে উঠেছেন সেখানেও বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে কিংবদন্তিকে। শুধু আর্জেন্টিনা কেন, ইতালির নেপলস শহরও প্রস্তুত ম্যারাডোনার মৃত্যুর এক বছর পূর্তি স্মরণীয় করে রাখতে। সেখানকার ক্লাব নাপোলিকে বড় দলগুলোর কাতারে তুলে এনেছিলেন ম্যারাডোনা। তাঁর প্রতি নেপলসবাসীর ভালোবাসা সব সময়ই অতুলনীয়। এদিকে আর্জেন্টাইন ফুটবল লিগ এরই মধ্যে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ম্যারাডোনাকে। তাঁর জীবন নিয়ে বানানো ভিডিওচিত্র বলা হয়, ‘আমরা বাকি জীবন আপনাকে মিস করব।’

আর্জেন্টাইনরা তাঁর মৃত্যুর শোক পারেনি। বুয়েনস এইরেসের রাস্তাঘাট থেকে টিভি—কোথায় নেই ম্যারাডোনা! তাঁর দেয়ালচিত্র, মূর্তির অভাব নেই। ৩০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালে বুয়েনস এইরেস থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ম্যারাডোনা নামক রূপকথাটি। গত বছরের এই দিনে সেটি বিরতি নিয়েছে বটে, তবে খুব দ্রুত থামবে বলে মনে হয় না। এমন রূপকথা এক বছর কেন, হাজার বছরেও যে থামার নয়। 

জীবদ্দশাতেই ম্যারাডোনা হয়ে উঠেছিলেন রূপকথার মহান এক চরিত্র। যিনি সব সময় হয়তো নায়ক নন, কিন্তু নায়কের চেয়েও বেশি কিছু। দেখতে তিনি হয়তো রক্তমাংসের সাধারণ মানুষই ছিলেন। তবে মানুষের মাঝে হয়তো একটু বেশিই মানুষ! বেঁচে থাকতেই তাই স্বর্গ-নরক দুটোই একসঙ্গে দেখে গেছেন। মৃত্যুর পরও কি নয়? ম্যারাডোনা আসলে কেমন, তা জানাতে গিয়ে তাঁর আত্মজীবনী ‘এল ডিয়েগো’র ভূমিকায় মার্সেলা মোরা যা লিখেছেন তা অনেকটা এ রকম—ঈশ্বর থেকে রাজনৈতিক কৌশলী, সন্ত থেকে মাদকসেবনকারী আর ভিলেন থেকে নির্যাতিত সবকিছুই যেন একবিন্দুতে মিলে যায়। ম্যারাডোনা এমনই। ভক্তরা যতই তাঁকে স্বর্গের দূত বানাতে চেয়েছেন, ম্যারাডোনা যেন ততই চেয়েছেন নিজেকে রক্তমাংসের একজন হিসেবে দেখাতে।

ম্যারাডোনার বিদায়ের এই এক ব্ছরে ফুটবল বিশ্বে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। সবচেয়ে বড় যেটা, সেটা হচ্ছে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে। জীবদ্ধশায় এই একটি শিরোপার জন্য গ্যালারিতে কত যে গলা ফাটিয়েছেন ম্যারাডোনা! ১৯৮৬ সালে তার হাত ধরে বিশ্বকাপ, ১৯৯৩ সালে যে সর্বশেষ কোপা জিতেছিল আর্জেন্টাইনরা, এরপর তো শুধু খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল লা আলবিসেলেস্তেদের।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ