22 January, 2022 (Saturday)
শিরোনাম

কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিতঃ 09-01-2022



নিজস্ব প্রতিবেদক : দলের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সভাপতি সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকে এ ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আগামী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সংক্রান্ত কঠোর অবস্থান ঘোষণা করবেন। ২০২৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে দলের কোনো অনৈক্য, বিশৃঙ্খলা এবং আত্মঘাতী তৎপরতা তিনি সহ্য করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। যারাই দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে, দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন।
 
উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের অন্তত দু'জন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং সেখানে তিনি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অনৈক্য এবং বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞাত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জানিয়ে দেন যে, দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারাই অবস্থান গ্রহণ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বার্তা যেন সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই নানা রকম কথাবার্তা চলছিলো। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই বিবদমান পক্ষ প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করে। শুধু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নয়, ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ দফা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ব্যাপক বিদ্রোহী প্রার্থীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
 
পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা প্রতীককে পরাজিত করেছে। পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ইউনিয়ন পরিষদের ৫২ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে ৪৭ শতাংশ আসনে। এটি আওয়ামী লীগ সভাপতি সহজভাবে নেয়নি। এর আগে প্রথম এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছিলেন যে, দলের যারাই নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করবে, বিদ্রোহী প্রার্থী হবে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং যারা বহিষ্কৃত হবে না তারা ভবিষ্যতে আর নৌকা প্রতীক পাবেন না। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম ধাপে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা যায়।
 
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বিদ্রোহ দমনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি পাঁচ রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
 
১. সতর্ক করে দেওয়া: যে সমস্ত নির্বাচনী এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছেন, যেখানে মনোনয়নের কোনরকম ত্রুটি ছিল বলে প্রমাণিত হবে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করা হবে, ভবিষ্যতে যেন তারা দলের স্বার্থবিরোধী কোনো রকম কাজকর্ম না করেন। সেজন্য তাদের শেষবারের মতো তাদেরকে সতর্ক করা হবে।
 
২. দলের পদ বঞ্চিত: যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন তাদেরকে দলের কোন পদে রাখা হবে না। স্থানীয় পর্যায়ের কমিটি থেকে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গুলোতে যদি তারা থাকেন তাহলে তাদেরকে বাদ দিতে হবে। শুধু প্রার্থী নয়, যারা ওই বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে পক্ষে কাজ করেছেন তাদেরও পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। ইতিমধ্যে বেশকিছু এলাকায় দলীয় পদ থেকে কয়েকজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
 
৩. ভবিষ্যতে নৌকা প্রতীক না দেওয়া: যারা নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করবেন তাদের ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে না। এমনকি আওয়ামী লীগ সভাপতি এটিও বলেছেন যে, যদি কোন এমপিও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করেন তাহলে ভবিষ্যতে তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে না। এরকম ৮৪ জন এমপির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
 
৪. কেন্দ্রীয় পদ পাবেনা: আওয়ামী লীগের কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে মদদ দেয় বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করে, তাদের কারণে যদি নৌকা প্রতীকের বিপর্যয় ঘটে তাহলে তারা ভবিষ্যতে কোনদিন দলের কেন্দ্রীয় পদ পাবেনা। তারা কালো তালিকাভুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ভালো পদ প্রদানের ব্যাপারে তাদের ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
 
৫. বহিষ্কার: চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে বহিষ্কারাদেশ গ্রহণ করা হবে। যদি দেখা যায় কেই বাড়াবাড়ি রকমে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দিয়েছে এবং তাদের কারণে আওয়ামী লীগের স্বার্থ ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে।
 
আওয়ামী লীগের এ সিদ্ধান্তগুলো আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে।



Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ