22 January, 2022 (Saturday)
শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জ: সারা দেশের জন্য বার্তা দিলেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিতঃ 10-01-2022



নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে সারা দেশের জন্য বার্তা দিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই একটি নির্বাচনে তার অবস্থান সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। শেখ হাসিনা জানিয়ে দিলেন যে, যত আপন ব্যক্তিই হোক না কেন, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, যত ত্যাগী-পরীক্ষিতই হোক না কেন, যদি দলের কেউ বিরোধিতা করে তাহলে দল তাকে ত্যাগ করতে বাধ্য হবে।
 
সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে পাঁচ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যেভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি হয়েছে তা আওয়ামী লীগের জন্য অশনিসংকেত বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন যে, কিছুতেই বিদ্রোহ দমন করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে যে সমস্ত স্থানে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা আছেন সেখানে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ভরাডুবি হয়েছে।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুটি কারণে এ ভরাডুবির ঘটনা ঘটেছে। প্রথমত, প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়ার ফলে একটা বিদ্রোহ হয়েছে, ত্যাগী-পরীক্ষিতরা সুবিধাবাদী নৌকা প্রতীকপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। দ্বিতীয়ত, যেখানে এমপি এবং প্রভাবশালী নেতাদের পছন্দের ব্যক্তি মনোনয়ন পাননি সেখানে ওই প্রভাবশালী নেতা এবং এমপি তার পছন্দের ব্যক্তিদের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। যার ফলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই ক্রমশ ভালো করছে। পঞ্চম ধাপে এসে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদেরকে পরাজিত করেছে। এই বিদ্রোহ দমনের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ দায়িত্বগুলোকে উপেক্ষা করেই বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি হয়েছিল।
 
এরকম বাস্তবতায় নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগ সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আবার মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়। এই মনোনয়ন দেয়ার পরপরই নারায়ণগঞ্জে সেই পুরনো বিরোধ আবার নতুন করে সামনে চলে আসে। আইভী বনাম শামীম ওসমানের বিরোধ নির্বাচনের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যখন তৈমুর আলম খন্দকার প্রার্থী হন এবং তার পিছনে ওসমান পরিবারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে বলে স্বয়ং আইভী দাবি করেন তখন নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরে আওয়ামী লীগ সভাপতি এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেন এবং তার এই উদ্যোগের ফলে শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমান আত্মসমর্পণ করলেন। আর এর মাধ্যমে বুঝা গেলো যে, শেখ হাসিনা যদি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন তাহলে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতে পারে না।
 
শুধু দরকার হলো শেখ হাসিনার কঠোর বার্তাটা সংশ্লিষ্টদের কানে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সেই কানে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নেতারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, যে ব্যর্থতার পরিচয় দেননি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী টিম। তারা শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগ সভাপতির বার্তাটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এটি শুধু নারায়ণগঞ্জের জন্যই বার্তা নয়, এটি সারা দেশে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের জন্য একটি বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন যে, শামীম ওসমান শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বিশেষ করে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে শামীম ওসমানের ভূমিকা শেখ হাসিনা সবসময় আবেগতাড়িত হয়ে স্মরণ করেন। সেই শামীম ওসমানকে যদি দলের স্বার্থে তিনি ছাঁটাই করার জন্য চিন্তা করতে পারেন, তাহলে অন্যান্য জায়গায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে শেখ হাসিনা এতোটুকু কুণ্ঠিত হবেন না। আর এই মনোভাবটি সারাদেশে কাজ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নারায়ণগঞ্জের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সারা দেশের জন্য বার্তা দিলেন, যারাই নৌকার বিরোধিতা করবে তারা যতই আপন হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে তিনি পিছপা হবেন না। এই বার্তাটি যখন সারা দেশে পৌঁছে যাবে, তখন বিদ্রোহী প্রার্থীরা কিছুটা হলেও কুণ্ঠিত হবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ