22 January, 2022 (Saturday)
শিরোনাম

তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে হঠাৎ পাল্টে গেছে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের দৃশ্যপট

প্রকাশিতঃ 11-01-2022



নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : পাল্টে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের দৃশ্যপট, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন জমে উঠেছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা করছেন তৈমুর আলম খন্দকার। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে লড়াইয়ের বাইরে নীরব-নিভৃতে একটি লড়াই হচ্ছে। সেই লড়াইটি হলো কৌশলের লড়াই। আর সেই কৌশলের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের দুর্দিনের পরীক্ষিত এই পাঁচ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং মির্জা আজমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর এই ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাদের বলিষ্ট ভূমিকার কারণেই নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের প্রচারণা সেলিনা হায়াৎ আইভী শুরু করেছিলেন পিছিয়ে থেকে। একদিকে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধাচরণ করছিল, অন্যদিকে তৈমুর আলম খন্দকারের পক্ষে ছিল বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল। 

এমনকি আওয়ামী লীগের একটি অংশও তৈমুর আলম খন্দকারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অবতীর্ণ হয়েছিল।নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আর এই গুরুত্ব দিয়েই তিনি জাহাঙ্গীর কবির নানক কে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের দায়িত্ব দেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর কবির নানক দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথে একটি নির্বাচনী টিম গঠন করেন।

এই নির্বাচনী টিমের অনেক সদস্য আছেন কিন্তু মূল পাঁচজন যাদেরকে তারাই এই নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকাগুলো পালন করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন- জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম এবং এস এম কামাল।এই পাঁচ নেতা নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের ক্ষেত্রে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখছেন বলে জানা গেছে। তারা প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছেন এবং নির্বাচন তদারকি করছেন। 

তারা যে বিষয়গুলো দেখছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো। এটি সকলেই জানে যে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিভক্ত এবং সেখানে নানা রকম মেরুকরণ রয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানেই শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াৎ আইভি, দুই শিবিরে বিভক্ত।এই অবস্থা থেকে একটি সমঝোতার অবস্থায় এনে সকলকে এক সূত্রে গ্রথিত করে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে যারাই নির্বাচনে আইভীর বিরোধিতা করছে বা নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করছে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।জাহাঙ্গীর কবির নানকের উদ্যোগেই ছাত্রলীগের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। এটি ছিলো একটি কঠিন বার্তা। এর ফলে নারায়ণগঞ্জের বিরোধ অনেকটাই নিরসন হয়েছে। এই পঞ্চপাণ্ডবের উদ্যোগের কারণেই শামীম ওসমান এখন নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। আগামীকাল তিনি সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় যাবেন এবং আইভীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুধু আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো নয়, কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক রয়েছে সেগুলোকে সংহত করা, কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগের দুর্বলতা রয়েছে সেই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। এই পঞ্চপাণ্ডবের উদ্যোগের কারণেই পুরো নির্বাচনী এলাকার নকশা করা হয়েছে এবং ভোটারদের রুচি, অভ্যাস ও প্রকৃতি অনুযায়ী আইভীকে প্রতিনিয়ত আপডেট করা হচ্ছে। 

যে অনুযায়ী আয়োজিত নির্বাচনী কৌশল গ্রহণ করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, যারা এ নির্বাচনের মাঠে আছে, যারা নির্বাচনের ফ্যাক্টর তাদেরকেও একসূত্রে গ্রথিত করার কাজ করছে তারা।নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে ওসমান পরিবার নিঃসন্দেহে একটি বড় ফ্যাক্টর। 

এই ওসমান পরিবারকে নিষ্ক্রিয় রাখা, শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ করেন, কিন্তু সেলিম ওসমান আওয়ামী লীগ করেন না। তিনি জাতীয় পার্টির করেন। কাজেই তিনিও যেন আইভীর বিরোধী অবস্থানের না থাকেন সে ব্যাপারে একটি সমঝোতা করা। অন্যান্য যে রাজনৈতিক দলগুলো আছে বিশেষ করে ১৪ দলীয় জোটের যে শরিকরা আছে তাদেরকে নির্বাচনের মাঠে নিয়ে এসে একটা ঐক্যের আবহ তৈরির মাধ্যমে আইভীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই সাফল্য লাভ করেছেন পাঁচ জন নেতা। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের লোকজন বলছে, এই পাঁচ নেতার ভূমিকার কারণেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটেছে, যেটি আইভীর পক্ষে যাচ্ছে।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ