22 January, 2022 (Saturday)
শিরোনাম

আড়াইহাজারে ডাকাত সন্দেহে তিন জনকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিতঃ 14-01-2022


নিহত মফিজুল হক ও জহিরুল ইসলাম।


নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় লেগুনার মালিক ও দুই চালককে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতদের স্বজনেরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ইলমদী বেনজীরবাগ এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন সোনারগাঁও উপজেলার বস্তল বৌবাজার গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মফিজুল ইসলাম (২৬), একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম জেসনু (২৭) ও আড়াইহাজার উপজেলার মাধবদী গ্রামের মোসলেম হোসেনের ছেলে নবী হোসেন (৩০)। তাদের মধ্যে মফিজুল ও নবী লেগুনাচালক এবং জেসনু লেগুনার মালিক।

আড়াইহাজার থানার ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, হাইজাদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন ভুঁইয়া সকাল সোয়া ৬টায় আমাকে ফোন দিয়ে জানান যে তার এলাকায় তিন জনকে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। তাদের আটক করে রেখেছে জনতা। সেখানে গিয়ে দুই জনকে মৃত এবং এক জনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিন জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য তিন জনের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোর ৫টায় রূপগঞ্জের একটি গার্মেন্টসের শ্রমিকবাহী মিনিবাস আড়াইহাজার উপজেলার সিংহদী এলাকায় আটক করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে তিন জন। পরে শ্রমিকেরা তাদের আটক করে ইলুমদী বাজারে নিয়ে আসে। এ সময় শ্রমিকদের কাছ থেকে তিন জনকে ছিনিয়ে নিয়ে ডাকাত সন্দেহে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনিতেই তিন জন মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর সঠিকভাবে বলা যাবে। নিহতদের ব্যবহৃত লেগুনা গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এখনই কিছু বলতে পারছি না। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। যারাই অপরাধী, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’ 

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডাক্তার গোলাম দস্তগীর প্রিন্স বলেন, ‘তিন জনকেই মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিন জনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। এছাড়া শরীরে লাঠি ও রড দিয়ে পেটানোসহ কিলঘুষির চিহ্নও আছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিকল্পিতভাবে মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’ 

নিহত মফিজুলের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো মফিজুল ভোর ৪টায় ইলমদী এলাকার শ্রমিক নেওয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। তার সঙ্গে লেগুনার মালিক জেসনুও ছিল। এলাকাবাসীর কাছে সকালে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলের লাশ দেখতে পাই।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ডাকাত না। গাড়ি চালায়। তাকে ওরা মেরে ফেলেছে।’ 

নিহত জহিরুলের ছোট ভাই তারেক বলেন, ‘আমার ভাই রাত ৪টার দিকে লেগুনার ড্রাইভার মফিজুলের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার জন্য ঐ এলাকায় যায়। আমার ভাই একজন ভালো মানুষ। তাকে শত্রুতাবশত হত্যা করা হয়েছে।’ 

নিহত জেসনুর বোন হেলেনা বলেন, ‘আমার ভাই এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বিদেশে চলে যায়। ৬ মাস আগে দেশে এসে একটি লেগুনা কেনে। সেই লেগুনা ভাড়ায় চালিয়ে সংসার চালাত। আমার ভাই ডাকাত না। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।’ 

নিহত জহিরুলের বন্ধু গোলজার বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে গাড়ির ব্যবসা করি। সে ডাকাত না। একজন ভালো মানুষ। কেউ শত্রুতা করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। গাড়ি নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো বিরোধের কথা কখনো শুনিনি।’ কারা এবং কেন তাদের হত্যা করেছে, সে বিষয়ে স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কেউই কিছু বলতে পারেননি। ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডাকাতি বা ছিনতাই হয়েছে বলে কেউ স্বীকারও করেনি। পুরো বিষয়টিই রহস্যজনক।




Social Media

মন্তব্য করুন:





সর্বশেষ খবর





সর্বাধিক পঠিত



এই বিভাগের আরও খবর

আরও সংবাদ